রবিবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মায়ানমারে। শান্তি নোবেল জয়ী আন সান সুচির ন্যাশানাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ৫৬ মিলিয়ন মায়ানমারবাসীম মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৭ মিলিয়ন মানুষ।  সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে কমপক্ষে ৯০টি রাজনৈতিক দল। ২০১৫ সালে ৫ দশক ধরে চলা সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নির্বচিত হয়ে মায়ানমারের সিংহাসন দখল করেছিলেন সুচি। এবারও কি সুচি তার প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন? তাই নিয়ে চলছে জল্পনা। 


করোনাভাইরাস জনিত মহামারির কারণ সাধারণ নির্বাচনে কম ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মায়ানমারবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখারসহ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত একাধিক স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরেই সংক্রমণের আশঙ্কায় অনেক মানুষই ভোট কেন্দ্র থেকে দূরেই থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতা দখল করলেও সংখ্যার ফারাক কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দেশের এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী সুকি। আর তাঁর দলের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। যা তাঁকে ভোট বৈতরনী পার করতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

তবে অন্যপক্ষের মত সুচির দলটি বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের সমর্থন হারিয়েছে। তবে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করছেন। তবে সীমান্ত এলাকার রাজনৈতির দলগুলিও বর্তমানে সুচির ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। পাল্টা সুচিও সেই সেইসব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নির্বাচনের  আগে সামঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় ৬০টিও বেশি দল রয়েছে। চলতি নির্বাচনে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশাও এইটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। দেশের আর্থিক উন্নতিতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সুচি। কিন্তু সেগুলি পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভোটের পার্থক্য কমলেও সুচি দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।