আর একদিন বাকি। বুধবার (২০ জানুয়ারি) আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার কথা জো বাইডেন (Joe Biden)-এর। নির্বাচনে জয়ের পর হোয়াইট হাউসে পা রাখার পথে ট্রাম্প শিবির থেকে তাঁকে একের পর এক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন অভিযোগ বর্ষণ, প্রমাণহীন অভিযোগে মামলা থেকে মার্কিন ক্যাপিটল-এ ট্রাম্প-সমর্থকদের দাঙ্গা - সামলাতে হয়েছে অনেক কিছু। তবে তারপরও বাইডেন-হ্যারিস জুটির হোয়াইট হাউসের ঢোকার রাস্তাটা সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক নয়। এবার বাধা সৃষ্টি করতে পারে মহাজাগতিক বস্তুরা।

আরও পড়ুন - মার্কিন ইতিহাসে এটাই প্রথম নয়, ট্রাম্পের আগেও ২ রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচের মুখোমুখি হতে হয়েছিল

আগামী কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্র নাসা (NASA)। নাসার সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ-এর দাবি, এরমধ্যে বুধবারই অন্তত চারটি বড় মাপের গ্রহাণু বা অ্যাস্ট্রয়েড (Asteroid) আমাদের গ্রহকে খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে বলে অবশ্য 'আশা করছে' তারা, একটু এদিক ওদিক হলেই তার কোনও একটি আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীর বুকে। তারমধ্যে সবচেয়ে কাছে আছে যেটি, সেটি গতিবেগ ঘন্টা প্রতি ৪৬,০০০ কিলোমিটার। এই গতিতে কোনও বড় মাপের গ্রহাণু  আমাদের গ্রহে আছড়ে পড়লে পৃথিবী যে রসাতলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন - বাইডেনের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন ২০ ভারতীয়, দেখে নিন কে কী দায়িত্বে থাকবেন

তবে নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এখনও অবধি, গ্রহাণুগুলি সরাসরি আমাদের গ্রহ লক্ষ্য করে ধাবিত হচ্ছে না। তারা সবকটিই নিরাপদ দূরত্বের পথ দিয়েই পৃথিবীকে অতিক্রম করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। তবে এই চারটি গ্রহাণুকেই নাসা নিয়ার আর্থ অবজেক্ট (Near Earth Object) বা পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা বস্তু বলে বিবেচনা করছে। এরমধ্যে পৃথিবীর সবথেকে কাছ দিয়ে যে গ্রহাণুটি যাবে তার নাম '২০২১ বিকে ১' (2021 BK1)। তার দৈর্ঘ ৯৩ মিটার। তবে, সেটি পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথের সমান দূরত্ব দিয়ে পৃথিবীকে অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে নাসা।

আরও পড়ুন - ট্রাম্প সমর্থকদের দাঙ্গায় উড়ল ভারতীয় তেরঙ্গা পতাকা, কে ওই রহস্যময় ব্যক্তি

নাসা এই খবর প্রকাশ করতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউসে বাইডেনের ঢোকা আটকানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভিনগ্রহী বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারাই, এই গ্রহাণু বর্ষণ করছে পৃথিবীকে লক্ষ্য করে। প্রসঙ্গত, মাসকয়েক আগে, ইসরাইলের মহাকাশ কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রধান হাইম এশেদ (Haim Eshed) দাবি করেছিলেন ভিনগ্রহীরা কোনও কল্পনা নয়, সত্যি সত্যিই তাদের অস্তিত্ব আছে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভিনগ্রহীদের একটি গ্যালাকটিক ফেডারেশন-ও আছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন তার সদস্য।