প্রথম থেকে সবকিছু নিয়মমাফিক চলার পরেও আর ইতিহাস গড়তে পারেনি ইসরো। চন্দ্রপৃষ্ঠের মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূর থেকে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। যাকে বলে তীরে এসে তরী ডোবার মতো পরিস্থিতি। 

তবে এই পরিস্থিতি কিন্তু প্রথমবার নয়। এমনকী চন্দ্রযান-২ও প্রথম অভিযান নয়, যা একটুর জন্য সাফল্য পায়নি। আর এই নিয়ে অবাক করা তথ্য তুলে ধরল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নাসার তরফে জানানো হয়, গত ছয় দশক ধরে ১০৯টি চন্দ্রাভিযানের মধ্যে মাত্র ৬১টি সফল হয়েছে, যা মোটের মাত্র ৬০ শতাংশ। 

প্রসঙ্গত গত বছর এপ্রিল মাসে 'বেরেশিট' নামে একটি চন্দ্রযান তৈরি করেছিল ইসরায়েল। চন্দ্রযানটি অবতরণের সময়েই ভেঙে পড়েছিল। এরপর ১৯৫৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউএসএসআর (বর্তমানে রাশিয়া), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, চিন  এবং ইসরায়েলও চাঁদে অভিযান চালিয়েছিল অরবিটার, ল্যান্ডার ও ফ্লাইবাই থেকে। 

প্রথম চাঁদে অভিযান পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সময়টা ১৯৫৮ সালের ১৭ মার্চ। কিন্তু স্পেসক্রাফ্টের উৎক্ষেপণটি অসফল হ য়েছিল। আর প্রথম সফল চন্দ্রাভিযান করেছিল ইউএসএসআর, ১৯৫৯ সালের ৪ জানুয়ারি। যার নাম ছিল লুনা ১। এটিই ছিল চাঁদের প্রথম ফ্লাইবাই মিশন। বহু প্রচেষ্টার পর ছয়বারের বার সাফল্য পেয়েছিল রাশিয়া। 

নিখোঁজ ল্যান্ডার বিক্রম, তবুও ব্যর্থ নয় ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযান, জানুন কেন

'যা করতে পারো না তা করো কেন'- চন্দ্রযান ২ নিয়ে ভারতকে কটাক্ষ পাকিস্তানের বিজ্ঞান মন্ত্রীর

শৈশবে চটি কেনার সামর্থ্য ছিল না, চাঁদকে ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখালেন কৃষক পরিবারে জন্মানো শিভন

মাত্র এক বছরের খানিকটা বেশি সময়ের মধ্যে ১৯৫৮ সালের অগাস্ট মাস থেকে ১৯৫৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউএসএসআর ১৪টি মিশন লঞ্চ করেছিল। যার মধ্যে লুনা ১, লুনা ২ এবং লুনা ৩ সফল হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাঁদের ছবি কাছ থেকে তোলার সুযোগ পায়। পরে হলেও জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন, ভারত, ইজরায়েল প্রযুক্তির প্রয়োগে চাঁদের ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিল।