রসায়নে তাঁদের কাজ বদলে দিয়েছে আধুনিক জীবন যাত্রা। বর্তমানে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ওয়্যারলেস যন্ত্র ছাড়া জীবন ভাবাই যায় না। আর এই যন্ত্রগুলি হোক কিংবা বৈদ্য়ুতিন গাড়ি, সবকিছুই একটি জিনিস ছাড়া অচল, তা হল এর ব্যাটারি। কোনও সাধারণ ব্যাটারি নয়, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। আর এই ব্যাটারি আবিষ্কার করার জন্যই এই বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তিন বিজ্ঞানী - জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম এবং আকিরা ইয়োশিনো।

সাধারণ ব্যাটারির নির্ভর করে রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপর। যার ফলে দীরে ধীরে এর দুই ইলেকট্রোডের ক্ষয় হতে থাকে। ফলে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্য়াটারির কাজ ক্ষেত্রে অ্য়ানোড আর ক্যাথোডের মধ্য়ে লিথিয়াম আয়নের যাতায়াত করে শক্তি দেয়। ফলে এই ধরণের ব্যাটারি বার বার রিচার্জ করা যায়।  

জন বি গুডএনাপ-এর জন্ম হয়েছিল জার্মানিতে। বর্তমানে তিনি টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম-ও আমেরিকাতেই থাকেন, তবে জন্মেছিলেন ব্রিটেনে আর আকিরা ইয়োশিনো-র জন্ম-কর্ম সবই জাপানে। ১৯৯১ সালে এঁদের কাজের উপর ভিত্তি করেই প্রথম বাজারে এসেছিল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি।

নোবেল কমিটি এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে জানিয়েছে, এঁদের আবিষ্কার একটি ওয়্যারলেস, জীবাশ্ম জ্বালানী-মুক্ত সমাজের ভিত গড়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার ফিজিকাল কসমোলজির তাত্ত্বিক আবিষ্কার ও সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জেমস পিবলস, মাইকেল মেয়র ও দিদিয়ের কেলোজ-এর নাম। তার আগের দিন মেডিসিন বা শারীরবিদ্যা বিভাগে নোবেল জিতেছেন উইলিয়াম জি কেইলিন জুনিয়র, স্যার পিটার জে ব়্যাটক্লিফ, গ্রেগ এল সেমেঞ্জা। এখনও বাকি সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা।