Assassination Plot:মার্কিন আদালতে এক পাকিস্তানি নাগরিক দাবি করেছেন যে, ইরানের গোয়েন্দারা তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে তাঁকে নামতে বাধ্য করেছিল। মার্কিন সরকারের কাছে বাঁচার আর্জি পাক নাগরিকের. 

মার্কিন আদালতে এক পাকিস্তানি নাগরিক দাবি করেছেন যে, ইরানের গোয়েন্দারা তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে তাঁকে নামতে বাধ্য করেছিল। ৪৭ বছর বয়সী আসিফ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানি নাগরিকের সাক্ষ্যে কাঠগড়ায় ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের এক আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। তাঁর অভিযোগ, ইরানের গোয়েন্দারা তাঁকে জোর করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেনের মতো মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যার ষড়যন্ত্রে নামিয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আসিফ মার্চেন্ট বুধবার আদালতে এই সাক্ষ্য দেন। তাঁর দাবি, পরিবারকে বাঁচাতেই তিনি এই চক্রান্তে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন।

ইরানের গোয়েন্দাদের চাপ!

ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় আসিফ বলেন, "আমার কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।" আসিফের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি হত্যাকারী সেজে থাকা দুই এফবিআই (FBI) আন্ডারকাভার এজেন্টকে ৫,০০০ ডলার দিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানাচ্ছে, আসিফের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানের এক হ্যান্ডলার তাঁকে আমেরিকায় গিয়ে "কাউকে খুন করানোর" নির্দেশ দেয়।

টার্গেট ২ প্রেসিডেন্ট

আসিফ সাক্ষ্যে জানান, প্রথমে নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলা হয়নি, কিন্তু পরে তিনটি নাম দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "কে টার্গেট, সেটা প্রথমে পরিষ্কার করে বলা হয়নি। কিন্তু আমাকে তিনজনের নাম বলা হয়েছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন এবং নিকি হ্যালি।" সেই সময় ট্রাম্প এবং বাইডেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে প্রধান দুই প্রতিযোগী ছিলেন।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সদস্য মেহরদাদ ইউসুফ কালপ্রিট!

২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই আসিফ নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর আরও দাবি, তিনি আগে থেকেই অর্থ পাচারের মাধ্যমে ইরানের সরকারকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছিলেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, আসিফ তাঁর হ্যান্ডলার হিসেবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সদস্য মেহরদাদ ইউসুফের নাম উল্লেখ করেছেন।

আসিফের বক্তব্য, ইরানে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ইউসুফ "চাপ সৃষ্টি" করায় তিনি এই কাজে রাজি হন। ইরানে থাকা তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের ওপর ঠিক কী ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি বিস্তারিত না বললেও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইউসুফ তাঁর বাড়িতে এসে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। আদালতে তিনি বলেন, "আমার পরিবার বিপদে ছিল, তাই আমাকে এটা করতেই হত।"

হত্যার পরিকল্পনা

নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনের একটি সার্ভেল্যান্স ফুটেজে কুইন্সের এক মোটেলে আসিফকে খুনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "এ হল টার্গেট। কীভাবে মরবে?" তবে আসিফের দাবি, তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে ধরা পড়বেন এবং এই পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না।

তিনি সাক্ষ্যে বলেন, "আমার মনে হয়নি আমি সফল হতে পারব। আমি নিজের ইচ্ছায় এই কাজটা করতে চাইনি।" তিনি আরও বলেন, মাত্র ৫,০০০ ডলারের বিনিময়ে এই কাজটাই প্রমাণ করে যে গোটা পরিকল্পনাটা বাস্তবসম্মত ছিল না। তাঁর কথায়, "এত কম টাকায় কেউ কাউকে খুন করে না।"

মানসিকভাবে ধরা পড়ার প্রস্তুতি নিয়েই কাজে হাত আসিফের

নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানাচ্ছে, আসিফ দাবি করেছেন যে তিনি ধরা পড়ার জন্য "মানসিকভাবে প্রস্তুত" ছিলেন এবং মার্কিন নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমি সরকারকে সবটা জানাতে চেয়েছিলাম। আমি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে চেয়েছিলাম।" বৃহস্পতিবার আসিফের ক্রস-এক্সামিনেশন হওয়ার কথা। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।