- Home
- World News
- International News
- November 13 Doomsday: ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই পৃথিবীর শেষ? ৭২ ঘণ্টার জন্য জল-সহ জরুরি সামগ্রী মজুতের পরামর্শ!
November 13 Doomsday: ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই পৃথিবীর শেষ? ৭২ ঘণ্টার জন্য জল-সহ জরুরি সামগ্রী মজুতের পরামর্শ!
৭২ ঘণ্টার জন্য কী কী মজুত রাখতে বলছে ব্রিটেন, জাপান ও ইউরোপ? তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কি সত্যি? ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের ভাইরাল দাবির পিছনের আসল কারণও জানুন।

৭২ ঘণ্টার প্রস্তুতির ডাক
ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান ও ইউরোপের সরকারগুলি পরিবারগুলিকে জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি থাকতে বলছে। অনেকেই অন্তত ৭২ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, সাইবার হামলা ও নাশকতার উদ্বেগ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলছেন, জরুরি অবস্থার প্রস্তুতির অর্থ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস নয়।
ব্রিটেনের 'বি রেডি' প্রচারাভিযান
২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার 'বি রেডি' প্রচারাভিযান আবার চালু করেছে। স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হলে সামলাতে পরিবারগুলিকে তিন দিনের সামগ্রী মজুত রাখতে বলা হয়েছে। তালিকায় আছে পানীয় জল, সহজে নষ্ট না হওয়া খাবার, টর্চ ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার কিট, নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাংক এবং দম দেওয়া রেডিও।
আমেরিকায় পেন্টাগনের 'ফোরট্রেস' পরিকল্পনা
ফরচুন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন 'ফোরট্রেস' (FORTRESS) নামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। এর লক্ষ্য, প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলিকে বাইরের সাহায্য ছাড়াই ৯০ দিন চালানোর সক্ষমতা তৈরি করা। এর ভিত্তি আরও শক্তিশালী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জ্বালানি মজুদ।
জাপানে এক সপ্তাহের প্রস্তুতির আবেদন
দীর্ঘদিনের ভূমিকম্প মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকেই জাপানের পদ্ধতি তৈরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর দেশের নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা চালু হলে একটি জরুরি আবেদন জানানো হবে। তাতে পরিবারগুলিকে অন্তত তিন দিন এবং আদর্শগতভাবে এক সপ্তাহের জন্য তৈরি থাকতে উৎসাহিত করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল ও রাশিয়ার প্রতিবেশীরা
২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত ইইউ-এর 'প্রস্তুতিমূলক ইউনিয়ন কৌশল' অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় মানুষের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা উচিত। 'লা মন্ড'-এর মতে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড ও তিন বাল্টিক দেশ বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাড়িয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার, সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ও নাগরিক প্রশিক্ষণ তার মধ্যে রয়েছে। ফিনল্যান্ড নয় মাসের চাহিদা মেটানোর মতো শস্য মজুত বাড়িয়েছে।
কেন ঠিক ৭২ ঘণ্টা
বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, তীব্র আবহাওয়া বা সাইবার হামলায় অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় উদ্ধার অভিযান ও হাসপাতাল চালু রাখাই অগ্রাধিকার পায়, তাই পরিবারকে কিছুক্ষণ নিজের সরবরাহের উপর নির্ভর করতে হতে পারে। কর্তৃপক্ষের মতে, ৭২ ঘণ্টা বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা, কারণ খরচ ও জায়গার দিক থেকে অধিকাংশ পরিবারের নাগালের মধ্যে থাকে।
তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন?
এমন কোনও প্রমাণ নেই। ওয়াশিংটনের নজর সামরিক স্থিতিস্থাপকতায়, জাপানের দুর্যোগ প্রস্তুতিতে, আর ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলির রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনায়। এই পদক্ষেপগুলি কোনও একক সমন্বিত বিশ্বযুদ্ধের সতর্কবার্তা নয়। সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ সহজ: কয়েক দিনের জল, খাবার ও ওষুধ মজুত রাখুন, সরকারি জরুরি সতর্কতা কীভাবে পাবেন তা জানুন এবং স্থানীয় জরুরি পদ্ধতি বুঝে রাখুন।
১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের গুজব
এই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক গুজব, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর, শুক্রবার নাকি ধ্বংস হবে পৃথিবী। দাবি করা হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা বহু বছর আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আসল সূত্র ১৯৬০ সালের এক গবেষণা
এই তারিখের পিছনে রয়েছে ১৯৬০ সালে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হাইঞ্জ ফন ফোয়েস্টার, প্যাট্রিসিয়া মোরা ও লরেন্স অ্যামিওটের গবেষণা। প্রায় দুই হাজার বছরের জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন। মডেল অনুযায়ী জনসংখ্যা ওই হারে বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারত। কিন্তু বিজ্ঞানীরা পৃথিবী ধ্বংস বা মহাপ্রলয়ের কথা বলেননি, তাঁরা সতর্ক করেছিলেন অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিপদ নিয়ে।

