বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রণক্ষেত্র বাংলাদেশের ঢাকা ও গাজীপুর। পুলিশের ফাঁড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেয় পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয়েছে বিজিবি।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে রীতিমতো রণক্ষেত্র বাংলাদেশের ঢাকা ও গাজীপুর। পোশাক শ্রমিকদের এই বিক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BBG) মোতায়েন করেছে প্রশাসন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ফাঁড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বলে খবর।
পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ
আন্দোলনকারীরা কারখানায় ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশের ফাঁড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বড় বড় রাস্তা আটকে দেয় তারা। ভিড় সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং বেশ কয়েকবার সাউন্ড গ্রেনেড ফাটায়। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই অশান্তি আজ ঢাকা শহরের মিরপুর এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ির মতো এলাকায় আরও চরম আকার নেয়। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শান্তি ফেরাতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি নামিয়েছে সরকার।

৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ
বর্তমানে বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২,৫০০ টাকা। কিন্তু শ্রমিকরা চাইছে এই বেতন বাড়িয়ে মাসে অন্তত ৩০,০০০ টাকা করা হোক। এর মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। সেখানে তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এর পরেই পোশাক শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়। ন্যূনতম বেতন ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে অনড় তারা। অন্যদিকে, কারখানার মালিকদের দাবি, আগের চেয়ে কাজের অর্ডার কমে গেছে এবং তৈরি পোশাকের দামও বাড়েনি। উল্টে কাঁচামাল আমদানির খরচ অনেক বেশি। তাই শ্রমিকদের এই বিপুল দাবি মেটানো তাদের পক্ষে বেশ কঠিন।
এই টানাপোড়েনের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন ঠিক করতে সরকার একটি ওয়েজ বোর্ড বা মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু বোর্ড তৈরি হলেও শ্রমিকরা এখনও রাস্তা ছাড়েনি, তাদের বিক্ষোভ চলছেই।
সত্তরের দশকের শেষ এবং আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) শিল্পের পথচলা শুরু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে। এই শিল্পে সরাসরি প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মহিলা। এর ফলে দেশজুড়ে মহিলাদের সামাজিক ক্ষমতায়নও অনেকটাই বেড়েছে।






