চাঁদে ১০টি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পেলোড সরবরাহের জন্য ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসকে ৯৩.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে নাসা। যদি সমস্ত পেলোড নিরাপদে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়, তাহলে নাসা মোট ১০১.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে।

আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের উচ্চাভিলাষী মিশন ব্লু ঘোস্ট ১ আজ, ২রা মার্চ, ২০২৫ তারিখে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করতে চলেছে। এই মিশনটি নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস (CLPS) উদ্যোগের অংশ এবং চাঁদের মেরে ক্রিসিয়াম অঞ্চলে অবতরণ করবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চাঁদে ১০টি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পেলোড সরবরাহের জন্য ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসকে ৯৩.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে নাসা। যদি সমস্ত পেলোড নিরাপদে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়, তাহলে নাসা মোট ১০১.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। যদি মিশন ব্যর্থ হয়, তাহলে অর্থপ্রদানের পরিমাণ কেটে নেওয়া হবে।

ব্লু ঘোস্ট মিশন ১, উৎক্ষেপণ থেকে অবতরণ পর্যন্ত

এই অভিযানটি ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে জাপানি মহাকাশ সংস্থা JAXA-এর Hakuto M2 মিশনের সাথে একটি SpaceX Falcon 9 রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ব্লু ঘোস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে।

সফল অবতরণের পর, ল্যান্ডারটি এক চন্দ্র দিবস (১৪ পৃথিবী দিন) সক্রিয় থাকবে এবং সূর্যাস্তের পরেও কিছু সময়ের জন্য কাজ করবে।

ব্লু ঘোস্ট ল্যান্ডারের বৈশিষ্ট্য

গঠন: এটি একটি বাক্স আকৃতির ল্যান্ডার যার চারটি অবতরণ পা রয়েছে।

বহন ক্ষমতা: ১৫৫ কেজি পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।

বিদ্যুৎ উৎস: সৌর প্যানেল, যা ৪৫০ ওয়াট থেকে ৬৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে।

তাপ নিয়ন্ত্রণ: তাপ পাইপ, রেডিয়েটার, বহু-স্তর অন্তরণ এবং সক্রিয় হিটার দিয়ে সজ্জিত।

যোগাযোগ ব্যবস্থা: ৬ এমবিপিএস ডাউনলিংক, ১০ এমবিপিএস পিক এবং ০.২ কেবিপিএস আপলিংক স্পিড।

ব্লু ঘোস্ট মিশনের গুরুত্ব

এই মিশনটি চন্দ্র গবেষণা, সম্পদ পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে। নাসার এই উদ্যোগের আওতায়, বেসরকারি কোম্পানিগুলিকে চাঁদে গবেষণা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানব অভিযানে আরও সহায়তা প্রদান করতে পারে।

তবে, ব্লু ঘোস্ট মিশন ১ হল চাঁদে আমেরিকার উপস্থিতি জোরদার করার এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করার একটি মিশন। এখন সকলের চোখ এর সফল অবতরণের দিকে নিবদ্ধ, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।