বাংলাদেশে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাজবাড়িতে ফেরি থেকে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে গেল একটি যাত্রীবাহী বাস। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
বাংলাদেশে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাজবাড়িতে ফেরি থেকে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে গেল একটি যাত্রীবাহী বাস। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
পুলিশ ইন্সপেক্টর রাসেল মোল্লা বুধবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারের জন্য আপাতত উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দিনের আলো ফুটলেই আবার কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত ২৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। কয়েকজন প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, তবে এখনও অনেকে নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দমকল, নৌবাহিনী, পুলিশ সহ বিভিন্ন দল একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে অন্ধকারের কারণে সাময়িকভাবে কাজ থামানো হয়েছে। সকালে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে।”
ঘটনাটি ঘটে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে, বিকেল ৫টা নাগাদ। রাজবাড়ী থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। ঢাকা এখান থেকে প্রায় ১২৮ কিলোমিটার দূরে। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়েই দমকল এবং ডুবুরিদের দল উদ্ধারকাজে নামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী তোলায় অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর 'হামজা' নামের উদ্ধারকারী জাহাজটি ডুবে যাওয়া বাসটিকে টেনে তোলে। রাত সওয়া ১১টা নাগাদ বাসটির একাংশ জলের উপরে দেখা যায় এবং সাড়ে ১১টার মধ্যে জাহাজের ক্রেনের সাহায্যে পুরো বাসটিকেই তুলে আনা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মার তীরে কান্নার রোল ওঠে। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় সেখানে ভিড় জমান নিখোঁজদের আত্মীয়রা। ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন নদীর পাড়ে শুধুই আর্তি আর অপেক্ষা।
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা
প্রাণে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী জানান, তিনি কোনওক্রমে সাঁতরে তীরে ওঠেন। কিন্তু তাঁর চোখের সামনেই স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে তলিয়ে যায় বাসটি।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা থেকে বাসে ওঠা আব্দুল আজিজুলও সাঁতরে প্রাণে বেঁচেছেন। কিন্তু ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান এখনও নিখোঁজ। (ANI)
