চিনে ভাইরাল হয়েছে 'প্লাস্টিক ইটিং' নামে এক বিপজ্জনক ওজন কমানোর ট্রেন্ড। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে খাবার রেখে চিবিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে হজম, হরমোন ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক কিছুই ভাইরাল বা ট্রেন্ডিং হয়, যা সাধারণ যুক্তিতে মেলে না। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমকে দোষ দেন। কিন্তু চিনের নতুন এই ট্রেন্ডটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়েছে বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। ব্যাপারটা হল ওজন কমানোর জন্য ডায়েট বা ব্যায়াম করা। কিন্তু চিনে এর জন্য যে নতুন পদ্ধতি ভাইরাল হয়েছে, তার নাম 'প্লাস্টিক ইটিং' বা 'ক্লিং র্যাপ ডায়েট'।
'প্লাস্টিক ইটিং' ব্যাপারটা কী?
চিনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Douyin, TikTok এবং X-এ এই অদ্ভুত পদ্ধতিতে ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বহু তরুণ-তরুণী। তাদের ভিডিও ভাইরাল হতেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এই পদ্ধতিতে, মুখের মধ্যে একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট রেখে তার ভিতরে খাবার ভরা হয়। তারপর সেই প্যাকেট সমেত খাবার চিবিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই ট্রেন্ডের সমর্থকদের দাবি, খাবার চিবানোর ফলে মস্তিষ্ক মনে করে যে পেট ভরে যাচ্ছে, কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ঢোকে না। এতে নাকি খাওয়ার লোভ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদ্ধতির কার্যকারিতার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এটি একেবারেই অবৈজ্ঞানিক।
শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর একটি গবেষণাপত্রে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরের ক্ষতি করে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করলে পেট এবং অন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে পেটে ব্যথা, পেট ফোলা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এটি হজম প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দেয়। প্লাস্টিকের ছোট কণা নিশ্বাসের সঙ্গে ঢুকে গেলে কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা BPA-এর মতো রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্য এবং মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এর সংস্পর্শে থাকলে লিভার এবং ফুসফুসের মতো অঙ্গে প্রদাহ বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এর ফলে কিছু মানসিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে। এটি খাবারের সঙ্গে একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করে। এই ধরনের ভাইরাল ট্রেন্ড দেখলে উদ্বেগ এবং আত্মমর্যাদার অভাব বাড়তে পারে। সারাক্ষণ ক্যালোরি নিয়ে চিন্তা করা দৈনন্দিন জীবনকেও ব্যাহত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
'প্লাস্টিক ইটিং' পদ্ধতি ওজন কমাতে সাহায্য করে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সঠিক পুষ্টি উপেক্ষা করলে পরে খিদে আরও বেড়ে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া বা মারাত্মক রোগা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সমাধান কখনই স্বাস্থ্যকর নয়। আসল সমাধান হল সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং মন দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে ওজন কমানোর জন্য একজন ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


