বন্যা, ধস আর কাঠফাটা রোদ—প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা এবার এসবের আসল কারণ খুঁজে বের করেছেন। আর সেই কারণটা আমাদের সবার জন্য এক চরম বিপদের সংকেত।
নেপাল, ভারত, আমেরিকা-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে চলেছে। বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ থেকে শুরু করে অতিবৃষ্টি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। প্রতি বছর বর্ষা এলেই এখন ভয় বাড়ে। একদিকে বৃষ্টির আকাল, তো অন্যদিকে ভয়ংকর বন্যা। বিজ্ঞানীরা টানা গবেষণা চালিয়ে পৃথিবীর বুকে ঘটে চলা এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আসল কারণ খুঁজে বের করেছেন।
পৃথিবীর ৯টি সীমানার ৭টিই পার
পৃথিবী, সৌরজগত বা মহাকাশ—সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে। কিন্তু মানুষের মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, যথেচ্ছ উন্নয়নমূলক কাজ, দূষণ আর প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সেই সীমা আজ লঙ্ঘিত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, পৃথিবীর ৯টি সীমানার মধ্যে ৭টিই আমরা পার করে ফেলেছি। এর ফলে আমাদের এই গ্রহ এখন চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা সেই ৭টি সীমানার কথাও বিস্তারিত জানিয়েছেন।
কোন ৭টি সীমা পার করেছে পৃথিবী?
'প্ল্যানেটারি হেলথ চেক ২০২৬' রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর এই ৭টি সীমা লঙ্ঘনের তালিকা তৈরি করেছেন। মানুষের অতিরিক্ত নাক গলানোর ফলেই এই অবস্থা। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিরূপের বদল, মিষ্টি জলের পরিবর্তন, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি ও অম্লীকরণ, জীবমণ্ডলের ক্ষতি এবং বায়োজিওকেমিক্যাল পরিবর্তন—এই ৭টি সীমা পার করার ফলে পৃথিবীর অবস্থা এখন বেশ শোচনীয় বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
প্রকৃতির ওপর মানুষের এই অত্যাচার, যথেচ্ছ ব্যবহার, জঙ্গল কাটা, প্লাস্টিক দূষণ, আর পাহাড়-পর্বত ধ্বংস করার মাশুল এখন আমাদেরই গুনতে হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ৭টি সীমানা লঙ্ঘন করাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরের বিস্তার, গ্রামের রূপ বদল, পুকুর-জলাশয় বুজিয়ে ফেলা এবং নদী দখলের মতো প্রকৃতি ধ্বংসের কাজগুলোই এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অ্যান্টার্কটিকা আর হিমালয়-সহ বিভিন্ন বরফঢাকা অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ও পৃথিবীর এই সীমা লঙ্ঘনেরই একটা জ্বলন্ত প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা তাই সবাইকে এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


