হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে সরাসরি একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান ও আমেরিকা। সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে কাতার ও পাকিস্তান। 

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে সোমবার এক বৈঠকের পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি একটি যোগাযোগ লাইন চালু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান এই খবর জানিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

হরমুজে বড় পদক্ষেপ

লেক লুসার্ন সামিটের পর জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা "ইতিবাচক ও গঠনমূলক" হয়েছে এবং এতে "উৎসাহজনক অগ্রগতি" দেখা গেছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত সময়ের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে একটি যোগাযোগ লাইন তৈরি করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো।"

১৪ দফার সমঝোতা

এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের (MoU) পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "এই MoU সই হওয়ার পর, ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান তার সর্বোত্তম প্রচেষ্টা ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ৬০ দিনের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং এর জন্য কোনো শুল্ক নেওয়া হবে না।"

এই চুক্তির ফলে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না এবং কোনো ট্রানজিট ফিও নেবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, "বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে।" এর মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করার কথাও বলা হয়েছে। "প্রযুক্তিগত ও সামরিক বাধা দূর করার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে, ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ৩০ দিনের মধ্যে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করবে।" এই পদক্ষেপের জন্য ইরানকে এক মাসের মধ্যে সমস্ত বাধা দূর করে কাজ শুরু করতে হবে।

এই সাময়িক ব্যবস্থার বাইরেও ভবিষ্যতের জন্য ভাবা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক পরিষেবা নির্ধারণের জন্য ওমান সুলতানাতের সঙ্গে আলোচনা চালাবে।" এই আলোচনায় পারস্য উপসাগরের অন্যান্য উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোও অংশ নেবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করা হবে।

তবে এর মধ্যেই একটি ভিন্ন খবরও সামনে এসেছে। রবিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় যে, হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ রয়েছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, তাদের সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে প্রণালী বন্ধই আছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইআরজিসি নেভি (IRGC Navy) কোনো জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।

সংস্থাটি আরও বলেছে, লেবাননে ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলা এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নে আমেরিকার "ব্যর্থতার" প্রথম জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই সামিটে অগ্রগতির খবর এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে "প্রণালী দখল করে নেওয়ার" হুমকি দিয়েছেন।