ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনওরকম আলোচনায় বসবে না তেহরান। তাঁদের নীতি হল প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। হোয়াইট হাউস যখন দাবি করছে যে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই কড়া বার্তা দিল ইরান।
হোয়াইট হাউস যখন দাবি করছে যে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার জানিয়ে দিলেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনওরকম আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তাঁদের নেই। বরং লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
ইরানের সরকারি টিভিতে আরাঘচি বলেন, "এখন আমাদের নীতি হল প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা আলোচনায় বসতে চাই না। এখনও পর্যন্ত কোনও আলোচনাই হয়নি। আমি মনে করি, আমাদের এই অবস্থান পুরোপুরি নীতিগত।"
তাঁর কথায়, "এখন আলোচনার কথা বলার অর্থ হল পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া।"
অন্যদিকে, বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি তারা আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে তাদের ওপর 'নরক নামিয়ে আনা হবে'। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, "আলোচনা চলছে। এবং তা ফলপ্রসূ হচ্ছে।"
এর আগে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ তেহরানকে আমেরিকার দেওয়া একটি ১৫-দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা বন্ধ করার জন্যই এই পরিকল্পনা। এই লড়াই এখন গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
লেভিট স্বীকার করেছেন যে এই ১৫-দফা প্রস্তাবের রিপোর্টে "সত্যের কিছু উপাদান" রয়েছে।
এই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, "এগুলো বিভিন্ন ভাবনার আকারে পেশ করা হয়েছে। দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে সবটাই জানানো হয়েছে। যদি এই বিষয়ে কোনও অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
আরাঘচি জানান, "বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ বা কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে" বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একে সংলাপ বা আলোচনা, কোনওটাই বলা যায় না।"
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরান হয়তো নিরাপত্তা গ্যারান্টি পেতে পারত, কিন্তু তেহরান এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের সুরক্ষাকবচ নিজেই তৈরি করে নিয়েছে।
আরাঘচি বলেন, “এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে কেউ উস্কানি দিতে পারে না। আমরা নিজেদের জন্য একটি নিরাপত্তা বর্ম তৈরি করেছি, যাতে সারা বিশ্ব বুঝতে পারে যে ইরানকে উস্কানি দেওয়া বা আমাদের স্বার্থ নিয়ে খেলা করার ফল মারাত্মক হতে পারে।”
