হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ড্রোন সাবমেরিন বা আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (UUV) আটকের দাবি করেছে ইরান। রেমুস ৬০০ নামের এই সাবমেরিনটি গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC)।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক ড্রোন সাবমেরিন আটকের দাবি করেছে। রেমুস ৬০০ (Remus 600) মডেলের এই আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেলটি মার্কিন সেনার বলে জানা গেছে।

আমেরিকার সাবমেরিন আটক ইরানের হাতে!

রবিবার ইরানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে ইরানের সামরিক কর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে 'আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী বাহিনীর দ্বিতীয় সাবমেরিন'টিকে টার্গেট করা হয়েছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, সামরিক গোয়েন্দা নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে একটি 'সমন্বিত ও জটিল অপারেশন' চালিয়ে এটিকে আটক করা হয়।

গুপ্তচর সাবমেরিন

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সেনারা গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সাহায্যে একটি জটিল অপারেশন চালিয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে থাকা আমেরিকান সন্ত্রাসবাদী বাহিনীর একটি উন্নত ইউএভি-কে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছি আমরা।" আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটি আসলে একটি রেমুস ৬০০। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও বুদ্ধিমান আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল। ইরানি আধিকারিকদের অভিযোগ, প্রণালীর ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তির মিশন চালাচ্ছিল এটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এটি রেমুস ৬০০ নামের একটি অত্যাধুনিক সাবমারসিবল। আইআরজিসি নৌবাহিনী এটিকে আটক করেছে। এর ভেতরের তথ্য উদ্ধারের জন্য বর্তমানে এটি আমাদের বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে।" আইআরআইবি জানিয়েছে, আটক করা সাবমেরিনটি সামরিক প্রযুক্তিবিদদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা সিস্টেমটি বিশ্লেষণ করে এর ভেতরের ডেটা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

হরমুজ নিয়ে আবারও কড়া ইরান

আইআরজিসি নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন বন্ধ। এই অঞ্চলে অননুমোদিত যান চলাচলের বিরুদ্ধে তারা 'কঠোর ও নিরলস' ব্যবস্থা নেওয়া চালিয়ে যাবে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আইআরজিসি নৌবাহিনী দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। আমরা এই প্রণালী দিয়ে বিপজ্জনক ও অননুমোদিত যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।"

ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামনে তেহরান দৃঢ় থাকবে এবং কোনোভাবেই পিছপা হবে না। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা শক্ত হাতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা আমাদের জনগণের সেবায় নিয়োজিত। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা লড়ে যাব। আমরা কথা দিচ্ছি, যতদিন আমাদের শরীরে প্রাণ আছে, আমরা জনগণের সৎ সেবক হয়ে থাকব। আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি আপ্লুত। আমি নিজেকে আপনাদের উপস্থিতির যোগ্য মনে করি না, আমি আপনাদের সেবক মাত্র।”

ইরান সেনা বাহিনীর বার্তা

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, “শত্রুর সামনে বিন্দুমাত্র পিছু না হঠতে এবং তাদের দমন করতে তেহরান বদ্ধপরিকর।” শেকারচি বলেন, “অসম যুদ্ধে (asymmetric warfare) ইরান বিশ্বের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দেশ।” হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে তিনি আমেরিকাকে সতর্ক করে দেন।

তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করার স্বপ্ন যেন আমেরিকানরা না দেখে। যদি তারা হস্তক্ষেপ করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে তারা কড়া থাপ্পড় খাবে। তাদের অবশ্যই আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ গেলে তার কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।”