আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ৮২তম পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (IRGC)। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে নিশানা করা হয়েছে। IRGC-র দাবি, এটি তাদের সবচেয়ে বড় আকারের হামলা।

আমেরিকা-ইজরায়েল জোটের বিরুদ্ধে ৮২তম পাল্টা হামলা শুরু করল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (IRGC)। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, এই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। IRGC-র সামরিক শাখা জানিয়েছে, ইরানের সাধারণ পরিকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগের বিমান হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের হামলা

IRGC জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই এই হামলা শুরু হয়েছে এবং সারাদিন ধরে তা চলার কথা। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা আর ইজরায়েলের একাধিক দেশে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিলেন ইরান। পাশাপাশি, মার্কিন সেনার জ্বালানি ডিপোগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে কামিকাজে ড্রোন হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা MQ-9 রিপার কমব্যাট ড্রোনের হ্যাঙ্গার, P8 নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার এবং ড্রোনের জন্য ব্যবহৃত একটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ডিশও নিশানায় ছিল।

ইরানের দাবি

প্রেস টিভি জানিয়েছে, এই পাল্টা হামলা ইরানের উত্তরের প্রদেশ মাজানদারান, গোলেস্তান, গিলান, আরদাবিল এবং পূর্ব আজারবাইজানের বাসিন্দাদের উৎসর্গ করা হয়েছে। IRGC আরও দাবি করেছে, তারা ইজরায়েলের দখলে থাকা অঞ্চলের একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং মৃত সাগরের (Dead Sea) কাছে ইজরায়েলি পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত শিল্পাঞ্চলে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।

ইজরায়েলের 'দখল করা অঞ্চল' থেকে আসা ফুটেজে ইরানের মিসাইল সরাসরি আঘাত হানার ছবি দেখা যাচ্ছে। IRGC জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স'-এর সদস্যরা মোট ২৩০টি অভিযান চালিয়েছে। তাদের মতে, ইজরায়েলি ঘাঁটি ও মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে এটাই এখনও পর্যন্ত 'সবচেয়ে বড়' হামলা।

IRGC-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ৮৭টি, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স গ্রুপ ২৩টি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ১১০টি ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। প্রেস টিভির রিপোর্ট বলছে, IRGC মনে করে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত আসলে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের আঞ্চলিক সঙ্গীদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ।

সামরিক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, 'যতদিন না এই অঞ্চল থেকে আগ্রাসী ও অত্যাচারীদের হাত কেটে ফেলা হচ্ছে' এবং প্রকৃত স্থিতিশীলতা আসছে, ততদিন এই জবাব চলবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একতরফা সামরিক অভিযানে ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সায়ীদ আলি খামেনি নিহত হন।

এই চলমান সংঘাতে ইরানের সাধারণ ও সামরিক পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণ গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইজরায়েলি ঘাঁটি ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান সরাসরি এবং জরুরি পাল্টা জবাব।