ইরানের অন্দরের রাজনীতিতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রেসিডেন্টের বদলে রেভোলিউশনারি গার্ডের নির্দেশ মেনে চলছেন। এই কারণে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের অন্দরের রাজনীতিতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রেসিডেন্টের বদলে রেভোলিউশনারি গার্ডের নির্দেশ মেনে চলছেন। এই কারণে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
আব্বাস আরাগচিকে বরখাস্ত করা হবে?
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত চরমে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ নাকি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বরখাস্ত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ইরানের বিষয় নিয়ে খবর করা ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যম, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে।
সেনাকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ
দুই নেতার অভিযোগ, বিদেশমন্ত্রী আরাগচি প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে এড়িয়ে সরাসরি রেভোলিউশনারি গার্ডের নির্দেশ মেনে কাজ করছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরাগচি নাকি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর চেয়ে রেভোলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার আহমদ ভাহিদির সহকারীর মতো আচরণ করছেন বেশি।
সূত্রের খবর, বিদেশমন্ত্রী ভাহিদির সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় রেখে চলছেন। অভিযোগ, তিনি ভাহিদির নির্দেশেই বিভিন্ন নীতি রূপায়ণ করছেন, অথচ প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে সেই বিষয়ে কিছুই জানাচ্ছেন না। এই ঘটনায় পেজেশকিয়ান অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে তিনি আরাগচিকে বরখাস্ত করবেন। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতে, সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার সময়ে বিদেশমন্ত্রীর এই ধরনের আচরণে প্রেসিডেন্ট নিজেকে কোণঠাসা বলে মনে করছেন।
ইরানে রাজনীতিতে বিভেদ
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনে বিভেদের খবর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২৮ মার্চ পেজেশকিয়ান এবং ভাহিদির মধ্যে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছিল। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-কে সূত্র মারফত জানানো হয়েছিল যে, এই বিবাদের মূল কারণ ছিল "যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলানো এবং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে তার বিধ্বংসী প্রভাব"।
এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রেসিডেন্ট কার্যত "সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অচলাবস্থার" মধ্যে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, যুদ্ধের সময় নিহত সরকারি আধিকারিকদের জায়গায় নতুন লোক নিয়োগ করার ক্ষমতাও তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভাহিদি নাকি দাবি করেছেন, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থার কারণে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ সরাসরি রেভোলিউশনারি গার্ডের দ্বারা নির্বাচিত এবং পরিচালিত হতে হবে।
অন্যদিকে, আইনসভাতেও এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ছবিটা স্পষ্ট হয় ২৭ এপ্রিল। সেদিন কট্টরপন্থী সাংসদদের একটি দল আলোচনা বা মধ্যস্থতাকারী দলকে সমর্থন করে একটি সংসদীয় বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে। অন্য ২৬১ জন সাংসদ সমর্থন করলেও, সঈদ জলিলির অনুগামী বলে পরিচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন। এর থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা বিভক্ত, তা বোঝা যায়।
‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতে, স্পিকার গালিবাফ আলোচনায় পারমাণবিক শক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করায় তাঁকে তিরস্কার করা হয়। এরপর তিনি মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই ঘটনার পরেই সংসদে ওই মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর আরাগচি আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ২৪ এপ্রিল একাই ইসলামাবাদে একটি প্রস্তাব নিয়ে যান, যা পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করেন।


