Iran Apologises to Gulf Neighbours:প্রতিবেশী দেশগুলির বুকে বারবার আক্রমণের পর অবশেষে ইরান বলল,'ভুল হয়ে গেছে।' ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) তাদের প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে
Iran Apologises to Gulf Neighbours:প্রতিবেশী দেশগুলির বুকে বারবার আক্রমণের পর অবশেষে ইরান বলল,'ভুল হয়ে গেছে।' ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) তাদের প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে যে বিবৃতি দিলেন তার সহজ মানে করলে এমনটাই দাঁড়ায়। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিশোধ নিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধে নেমে পড়েছে ইরান। আর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে শুধু ইজরায়েল নয়, সংযুক্ত আরবআমিরশাহি, কাতার, আজারবাইজান, বাহারিন, ইরাক, কুয়েত, জর্ডন, সৌদি আরবে ক্ষেপনাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আর এতেই তেহরানের ওপর তাদের প্রতিবেশী দেশগুলির ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। আবুধাবি, দুবাইয়ের ওপর হামলার জবাব দিতে ইরানের ওপর পাল্টা হামলা করার কথা বলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সৌদির রাজপরিবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাইছে। প্রতিবেশী মিত্রশক্তি দেশগুলি ক্ষুব্ধ হওয়ায় আসরে নামলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
কী বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা পরিস্থিতির মাঝেই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি রেকর্ড করা ভাষণে প্রেসিডেন্টট এই ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় একাধিক দেশ প্রভাবিত হওয়ায় এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই।গত কয়েক দিনে ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাহারিন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-র দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ভুল বোঝাবুঝির কারণেই হামলা!
এই ইস্যুতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, "ইরানের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিবেশী দেশ আক্রান্ত হয়েছে, তাদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি।"তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের উদ্দেশ্য কখনওই প্রতিবেশী দেশগুলির উপর হামলা চালানো বা তাদের ভূখণ্ডে আগ্রাসন করা নয়। তাঁর কথায়, কিছু হামলা নাকি সেনাবাহিনীর ভিতর সমন্বয়ের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বাহারিন, ইউএই-তে আর হামলা হবে না সেই নিশ্চয়টা তিনি দেননি।
দেখুন ইউএই-র বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা
নতুন কী সিদ্ধান্ত নিল ইরান
ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ ইতিমধ্যেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও প্রেসিডেন্ট জানান। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনও প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড থেকে ইরানের উপর আক্রমণ না হলে তাদের লক্ষ্য করে আর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। পেজেশকিয়ানের কথায়, "এখন থেকে আমাদের বাহিনী প্রতিবেশী দেশগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা করবে না, যদি না ওই দেশগুলির মাটি থেকে আমাদের উপর আক্রমণ হয়।"
কাকে দায়ি করলেন
এদিকে এই সংঘাতের জন্য তিনি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-কে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, "আমেরিকা ও জায়নিস্ট শক্তির সামরিক আগ্রাসন" ইরানকে আত্মরক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের" দাবিকেও কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের মন্তব্য, এমন দাবি “কখনওই বাস্তবায়িত হবে না, এটা শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।"
এখন কী করবে তেহরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ এড়াতে ইরান কূটনৈতিক পথে সমাধানের চেষ্টা করেছিল এবং কিছু বন্ধু প্রতিবেশী দেশও সেই উদ্যোগে সহায়তা করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ইরানকে পাল্টা জবাব দিতেই হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে এই ক্ষমাপ্রার্থনা মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। যদিও একই দিনে কিছু হামলার খবরও সামনে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ফলে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।


