Israel Elections: ইজরায়েলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গড়ার প্রক্রিয়া শুরু। বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে বৈঠক করলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান। কোন পথে ইজরায়েলের সরকার?

ইজরায়েলে নির্বাচন-পরবর্তী জোট গড়ার তৎপরতা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বৃহস্পতিবার 'বি-ইয়াহাদ' দলের দু'নম্বর নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে বৈঠক করলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান।

নেতানিয়াহুকে ইজরায়েলের ক্ষমতা থেকে সরাতে বৈঠক

সদ্য সমাপ্ত নেসেট (ইজরায়েলের পার্লামেন্ট) নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে শিন বেট। এর মাঝেই এক্স হ্যান্ডেলে গোলান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইজরায়েলে পরিবর্তনের সরকার গড়তে তিনি বদ্ধপরিকর।

এক্স-এ গোলান লেখেন, "বন্ধু ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে দারুণ একটা বৈঠক করে বেরোলাম। ইজরায়েলকে বাঁচাতে আমি সবরকম চেষ্টা করতে প্রস্তুত। আমাদের সব শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।" বিরোধী নেতাদের মধ্যে যে দারুণ বোঝাপড়া রয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। গোলানের কথায়, "আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। পরিবর্তনের এই সুযোগ আমরা কিছুতেই হাতছাড়া করব না। আমরা এটা করবই, আর আমরা সফলও হব।"

ভোটে কারচুপির অভিযোগ ওড়ালেন বিরোধীরা

এদিন সকালেই গোলান দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু "বড়সড় হারের মুখে পড়েছেন"। আর এখন তিনি "জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে একটা কুৎসিত প্রচার চালিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন।" বিশেষ করে ইজরায়েলের আরব নাগরিকদের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এক্স-এ গোলান লেখেন, "গণতান্ত্রিকভাবে নেতানিয়াহুর চরম পরাজয় হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁকে খারিজ করে দিয়েছে, কিন্তু তিনি ভোটারদের রায় মানতে নারাজ। এখন তিনি জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে, বিশেষ করে আরবদের বিরুদ্ধে কুৎসিত প্রচার চালিয়ে ভোটের ফলকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন।" নেতানিয়াহুকে যে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তেই হবে, সে বিষয়েও রীতিমতো শপথ নিয়েছেন গোলান। নির্বাচনে কারচুপির যে কোনও অভিযোগের শেষ পর্যন্ত তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন গোলান। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, "নেতানিয়াহুর অফিসেই তাঁর সবচেয়ে কাছের এক উপদেষ্টা কাতারের হয়ে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতার কাজটা করেছিলেন।"

এক্স-এ তিনি লেখেন, "ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে এক মুহূর্তের জন্যও ভোলা উচিত নয় যে, নেতানিয়াহুর অফিসেই তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কাতারের হয়ে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আমরা এখনও উরিচকে বরখাস্ত করার অপেক্ষায় রয়েছি।"

জেরুজালেম পোস্টের খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর প্রবীণ উপদেষ্টা জোনাথন উরিচের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচার এবং প্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই তদন্ত চলাকালীন তাঁকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি 'কাতারগেট' নামে পরিচিত। অভিযোগ, ইজরায়েলের অন্দরে কাতারের হয়ে প্রচার চালানোর জন্য উরিচ সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিক কাতার-ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছিলেন, এমনটাই জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট। এরপরই মঙ্গলবারের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত করতে শিন বেট প্রধান ডেভিড জিনিকে নির্দেশ দেন ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কাতারের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে শিন বেট।

তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মঙ্গলবারের নেসেট নির্বাচন সম্পূর্ণ আইন মেনেই হয়েছে। 'দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, লিভনে জানিয়েছেন, নির্বাচনে পদ্ধতিগত অনিয়মের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ইজরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছে কাতার। তাদের পাল্টা অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে "কয়েকজন ইজরায়েলি রাজনীতিক" তাদের নাম ব্যবহার করছেন। তা সত্ত্বেও এই ঘটনা জেরুজালেমের রাজনীতিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

এই বিতর্ককে "ভূমিকম্প" বলে আখ্যা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, আরব দলগুলোকে সুবিধা করে দিতেই নির্বাচনে বিদেশি শক্তি হস্তক্ষেপ করেছে। তাই 'রা'আম' এবং 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর মতো দলগুলোর সঙ্গে হাত না মেলাতে ইহুদিবাদী দলগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যদিও ইজরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলো এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এই ঘটনার কড়া পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর জেরে যেন সাধারণ আরব নাগরিকদের অকারণে বদনাম করা না হয়।