ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে যে তারা তেহরানে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড পোস্টও ছিল। পালটা জবাবে, ইরানের IRGC হুমকি দিয়েছে যে তারা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ও ইজরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশানা করতে পারে।

তেহরানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামোয় IDF-এর হামলা

রবিবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, তারা তেহরানের একেবারে ‘বুকে’ ইরানের সামরিক পরিকাঠামোর ওপর বড়সড় হামলা চালিয়েছে। IDF তাদের X হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, এই অপারেশনে ‘ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসনের’ সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় হামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক ডজন অস্ত্র ভান্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে। 

X-এর ওই পোস্ট অনুযায়ী, হামলার সময় বেশ কয়েকটি অস্থায়ী কমান্ড সেন্টারও ধ্বংস করা হয়েছে। জানা গেছে, ওইসব সেন্টার থেকে কমান্ডাররা কাজ চালাচ্ছিলেন। IDF আরও জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুত কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ চৌকিও তাদের নিশানায় ছিল।

পালটা জবাবের হুমকি ইরানের, নিশানায় মার্কিন-ইজরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়

এর আগে, রবিবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েল যেভাবে ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, তার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকান ও ইজরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশানা করা হতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (IRIB) টেলিগ্রামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে IRGC ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের শিক্ষা পরিকাঠামোকে নিশানা করছে। IRIB-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমেরিকান-জায়নবাদী আগ্রাসী শক্তি তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বোমা ফেলে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বহুবার নিশানা করেছে।” বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত মার্কিন ও ইজরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়কে “বৈধ নিশানা” বলে মনে করা হবে।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে নিশানা করার অভিযোগ তেহরানের

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই X-এ একটি পোস্টে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চলে চলা সংঘাতের মধ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েল ‘জেনেশুনে’ ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোগুলিকে নিশানা করছে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের “আসল উদ্দেশ্য” প্রকাশ হয়ে পড়েছে, কারণ তারা পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, ঐতিহাসিক সৌধ এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

বাকায়েই এই হামলাকে “দেশের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পঙ্গু করে দেওয়ার” একটি প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং তেহরানের ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উল্লেখ করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলি ইরানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর দাবি, গত ৩০ দিনের সংঘাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলিতেও হামলা হয়েছে। বাকায়েই আরও বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আটকানো বা “আসন্ন বিপদ” মোকাবিলার মতো দাবিগুলো আসলে “নোংরা অজুহাত”, যার আড়ালে তেহরানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করার বৃহত্তর কৌশল রয়েছে।