লেবার পার্টির অন্দরের প্রবল চাপে শেষমেশ পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সেরা ব্যক্তি কি না, সেই প্রশ্ন ওঠার পরেই এই সিদ্ধান্ত। 

ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। লেবার পার্টির অন্দরের প্রবল চাপের মুখে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পদত্যাগের ঘোষণার সময় স্টারমার মেনে নেন যে তাঁর নেতৃত্ব এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন কিয়ার স্টারমার

কিয়ার স্টারমার বলেন, "আমি জানি এখন প্রশ্ন উঠছে, লেবার পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেরা মুখ কে। দল জানতে চাইছে, পরবর্তী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সেরা ব্যক্তি কি না... আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে আমি সেই উত্তর পেয়েছি এবং আমি তা মেনে নিচ্ছি। আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা সব সময় আমার প্রিয় দেশকে প্রথমে রেখে। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেব। আমি আজ সকালে মহামান্য রাজাকে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। আমি লেবার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভকে অনুরোধ করব সেপ্টেম্বরে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের আগে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে... আমি আমার উত্তরসূরিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করব। আমি জানি, তিনি একটি শক্তিশালী ব্রিটেন পাবেন যা লেবার পার্টিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করবে। আমি আমার সমস্ত সহকর্মীকে তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।"

এরপর আবেগতাড়িত স্টারমার তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "আমার স্ত্রী সব ভালো-মন্দ সময়ে আমার পাশে পাথরের মতো দাঁড়িয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছাড়ার পর আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেব। আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিকির সেরা স্বামী হয়ে ওঠা এবং আমার গর্ব ও আনন্দের কারণ, আমার সুন্দর সন্তানদের সেরা বাবা হয়ে ওঠার চেষ্টা করব।"

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া

স্টারমার লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে নেতা নির্বাচনের জন্য একটি সময়সূচি তৈরি করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই সংসদীয় গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে তা বন্ধ হয়ে যাবে। যদি প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরে সংসদ ফেরার আগেই লেবার পার্টি একজন নতুন নেতা পেয়ে যাবে।

স্টারমার vs অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি সংসদীয় আসনে জয়ী হওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়। এই জয়ের ফলে লেবার পার্টির সম্ভাব্য নেতা হিসেবে তিনি সামনের সারিতে চলে এসেছেন। এছাড়া, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে নাম জড়ানো পিটার ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের দূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্টারমারের ক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট সহকর্মী, উপদেষ্টা, দলের ডোনার এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্টারমার বুঝতে পারেন যে তাঁর পক্ষে আর পদে থাকা সম্ভব নয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই বছরের মাথায় এই ঘটনা ঘটল। এর ফলে ব্রিটেন আবার একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবেশ করল। গত সাত বছরে এই নিয়ে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে দেশ।