মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, একটি চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, একটি চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন হামলা স্থগিত রাখার বিষয়টি কেবল তখনই বজায় থাকবে যদি চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করা হয়। 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আসন্ন এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু হুমকির অবসান ঘটানোর" বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি লেখেন, "ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ আমাদের কাছে কোনও হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ একটি চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই অনুরোধের ভিত্তিতে এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ ও একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে—দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার শর্তে—আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।"

হুমকি দিলেন ট্রাম্প

চুক্তির আহ্বানের পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভাষায় বলেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমন এক সামরিক শক্তি ও ভয়াবহ ক্ষমতার প্রদর্শন করা হবে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।" তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে ইজরায়েল সম্মত হয়েছে; এই চুক্তির মাধ্যমে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটবে।

এ বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এর আগে আমেরিকারে যে কোনও দুঃসাহসী পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করে দেয় তেহরান। তারা জানায়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী যদি কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা তার কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেবে।

পাল্টা জবাব ইরানের

শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে, ইরানের ছোড়া বেশ কিছু শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে, যেগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। আব্বাস আরাঘচির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে, ইরান যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেবে। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের পরিণতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার বিষয়েও আলোচনা করেন।

পরবর্তীতে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে জানান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের কোনও হামলা কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক কোনও দেশ যুক্ত থাকলে তার যথাযথ ও সমানুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।