Earthquake:রবিবার দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.০। তার আগেই ইন্দোনেশিয়ায় একটি মাঝারি মাপের ভূমিকম্প অনুভূত হল।
রবিবার দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী কম্পন হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.০। ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গভীরে। NCS তাদের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, "ভূমিকম্পের মাত্রা: ৬.০, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬, সময়: দুপুর ২:৫৮:২৭ (ভারতীয় সময়), অক্ষাংশ: ১৫.৯২ দক্ষিণ, দ্রাঘিমাংশ: ১৭৩.৭০ পশ্চিম, গভীরতা: ১৩০ কিমি, স্থান: দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর।"
প্রশান্ত মহাসাগরে ভূমিকম্প
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানাচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের এলাকাটিই হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল। একে 'সার্কাম-প্যাসিফিক সিসমিক বেল্ট' বলা হয়। এই অঞ্চলেরই ডাকনাম 'রিং অফ ফায়ার'। বিশ্বের প্রায় ৮১ শতাংশ বড় ভূমিকম্প এখানেই হয়।
এই বেল্টটি টেকটনিক প্লেটের সীমানা বরাবর অবস্থিত। এখানে একটি প্লেট অন্য একটি প্লেটের নীচে ঢুকে যায়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে সাবডাকশন। এই ধরনের প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই এখানে ভূমিকম্প হয়। অতীতে এই 'রিং অফ ফায়ার'-এই ১৯৬০ সালে চিলিতে ৯.৫ মাত্রার ভালদিভিয়া ভূমিকম্প এবং ১৯৬৪ সালে আলাস্কায় ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের প্রায় ৯০% ভূমিকম্পই এই 'রিং অফ ফায়ার' বরাবর হয়। আর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলির প্রায় ৮১% এখানেই ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ ভূমিকম্প হয় যা যন্ত্রে ধরা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ভূমিকম্প মানুষ অনুভব করতে পারে এবং ১০০টি ভূমিকম্প ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রিং অফ ফায়াল
এই 'রিং অফ ফায়ার' প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৫,০০০ মাইল) দীর্ঘ এবং প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩১০ মাইল) চওড়া। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ অংশকে ঘিরে রেখেছে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, 'রিং অফ ফায়ার'-এর বর্তমান কাঠামোটি তৈরি হতে কোটি কোটি বছর লেগেছে। প্রায় ১১.৫ কোটি বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ায় এর গঠন শুরু হয়। এরপর প্লেটের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ইন্দোনেশিয়া ও নিউ গিনির অংশটি তৈরি হয়। সবশেষে, প্রায় ৩.৫ কোটি বছর আগে নিউজিল্যান্ডের অংশটি গঠিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প
রবিবার ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৩। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মাটির মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা বেশ অগভীর। এই কারণে আফটারশক বা পরাঘাতের আশঙ্কাও থাকছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে NCS জানিয়েছে, "ভূমিকম্পের মাত্রা: ৫.৩, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬, সময়: সকাল ১১:৩৫:০৮ (IST), অক্ষাংশ: ২.২৪ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ: ৯৬.৭৭ পূর্ব, গভীরতা: ১০ কিমি, স্থান: ইন্দোনেশিয়া।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির অগভীর ভূমিকম্পগুলো সাধারণত গভীরের ভূমিকম্পের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়। কারণ, এক্ষেত্রে ভূমিকম্পের তরঙ্গ খুব কম দূরত্ব পেরিয়ে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। ফলে মাটির কম্পন অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এবং বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেড়ে যায়। হতাহতের সংখ্যাও বেশি হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পের কারণ
ইন্দোনেশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে ভূমিকম্প, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ধসের মতো একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অফ ফায়ার'-এর উপর অবস্থিত এবং তিনটি সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। তাই এখানে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের প্রবণতা খুব বেশি।
ইন্দোনেশিয়ায় 'মেগাথ্রাস্ট' ভূমিকম্পের ঝুঁকিও প্রবল। এই ধরনের ভূমিকম্প অত্যন্ত শক্তিশালী হয় এবং ভয়ঙ্কর সুনামি তৈরি করতে পারে। যেমনটা হয়েছিল ২০০৪ সালে। সেবার আচেহ প্রদেশের উপকূলে সুন্দা মেগাথ্রাস্ট থেকে তৈরি হওয়া ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ভারত মহাসাগরে এক বিশাল সুনামি তৈরি করে। এর জেরে এক ডজনেরও বেশি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ২,৩০,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মারা গিয়েছিলেন ১,৬৭,০০০-এর বেশি মানুষ।
ইন্দোনেশিয়ায় দিনে গড়ে প্রায় ২০টি ভূমিকম্প হয়। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই এতটাই দুর্বল যে তা অনুভব করা যায় না।


