বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসের আগে নাকি আগাম ইঙ্গিত মিলেছিল নেপালে! কাঠমান্ডুর এক মন্দিরে দেবী মূর্তির গা থেকে নাকি ঘাম ঝরছিল, যা অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতির রোষে বিধ্বস্ত নেপাল। প্রবল বৃষ্টি, বন্যা এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনজীবন। এর মধ্যেই সামনে এল এক অদ্ভুত দাবি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই বলছেন, এই বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নাকি আগেই পাওয়া গিয়েছিল।
নেপালের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া দাবি অনুযায়ী, কাঠমান্ডু উপত্যকার এক প্রাচীন মন্দিরে দেবী মূর্তির শরীর থেকে আচমকাই ঘাম ঝরতে দেখা যায়। মন্দিরের পুরোহিতরা প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তারা জানান, দেবীর মুখে ও কপালে বিন্দু বিন্দু জলের মতো জমেছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল দেবী ঘামছেন।
কী বলছে প্রাচীন বিশ্বাস?
নেপালে একটি প্রাচীন বিশ্বাস প্রচলিত আছে। সেখানে মনে করা হয়, বড় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অমঙ্গল আসার আগে দেব-দেবীর মূর্তি ‘ঘামতে’ শুরু করে। এটি আসলে দেবীর কান্না বা সতর্কবার্তা। মানুষকে আগাম সতর্ক করতেই নাকি দেবী এই লীলা দেখান।
প্রাচীনকালে রাজপরিবারেও এই বিশ্বাস ছিল। যদি কোনও মন্দিরে দেবী ঘামতেন, তাহলে রাজাকে বিশেষ পুজো ও ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হত।
পালানচক ভগবতী মন্দির নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। পঞ্চখাল এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরে দেবী ভগবতীর কালো পাথরের মূর্তি রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই দেবী বিপদ ও দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে বিশেষভাবে পূজিত। মূর্তিকে ঘিরে এর আগেও নানা অলৌকিক বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। বড় কোনও ঘটনা বা বিপর্যয়ের আগে দেবীর মূর্তিতে এমন পরিবর্তন দেখা যায় বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
বিজ্ঞান কী বলছে?
যদিও বিজ্ঞান এই ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মন্দিরের ভিতরে ঠান্ডা পাথরের মূর্তির গায়ে জলীয় বাষ্প জমে যায়। একেই ঘাম বলে ভুল করা হয়। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমনটা হতেই পারে।
তবে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, বিজ্ঞান দিয়ে সবকিছুর ব্যাখ্যা হয় না। এই বিপর্যয়ের পর দেবীর ঘামার ঘটনা কাকতালীয় নয়, বরং এটা ছিল প্রকৃতির দেওয়া আগাম সতর্কবার্তা।
