এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ। USGS ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে, তবে হিমবাহের পরিবর্তন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর উত্তরে উদ্ধারকাজ চলছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা আর ধসের কারণে গোটা উপত্যকার চেহারাটাই বদলে গেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ‘আগে ও পরে’-র ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেবীঘাট, স্যাব্রুবেসি এবং বেত্রাবতীর মতো এলাকাগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত জুড়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ।

কয়েকদিন আগেও এই শহরগুলোতে নদীর ধারে ছিল ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর স্বাভাবিক জনজীবন। কিন্তু হঠাৎ আসা জলের স্রোত আর পাহাড়ের ধস সবকিছুকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে এই ভয়াবহ পরিবর্তনটা স্পষ্ট ধরা পড়েছে।

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে মৃতের সংখ্যা অনেক। নেপালের কর্মকর্তারাও আশঙ্কা করছেন যে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাস্তা ভেঙে যাওয়া এবং নরম মাটির কারণে উদ্ধারকাজ ধীর গতিতে চলছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে ধীরে ধীরে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

মূলত বিপর্যয় ঘটেছে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার উত্তরে। উদ্ধারকারী দলগুলো যেসব রুটে সম্ভব, সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি বারবার বদলাচ্ছে এবং নতুন করে ধস নামার কারণে ঝুঁকি ও দেরি, দুটোই বাড়ছে।

View post on Instagram

স্যাটেলাইট ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে

দেবীঘাটে নদীর ধার এবং সংলগ্ন বসতি এলাকা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্যাব্রুবেসিতে মূল রাস্তা এবং বাড়িঘরের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। বেত্রাবতীর আশেপাশে, নদীর পাড় এবং কাছের জমি এখন পলি আর ধ্বংসস্তূপে ঢাকা।

লাংটাং হিমবাহের ছবিতেও ভূপৃষ্ঠের বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই ছবিগুলো শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দিচ্ছে না; বরং দেখাচ্ছে যে কীভাবে একটি বন্যা এবং কাদামাটির স্রোত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পাহাড়ি এলাকাকে গ্রাস করতে পারে, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।

View post on Instagram

কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, USGS ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে

প্রথমে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ভূমিকম্পকে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু USGS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই এলাকায় কোনও ভূমিকম্প হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমবাহ ধসে পড়া বা দ্রুত গতিতে বরফ ও মাটির স্রোত নেমে আসার ফলেও এমন আকস্মিক বন্যা হতে পারে। তবে আসল কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

লাগাতার বৃষ্টি, অস্থির পাহাড়ি ঢাল এবং কাদামাটির স্রোত উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এখনও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। তাই সময় যত যাচ্ছে, জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ততই কমছে। নদীর পাড় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।

View post on Instagram

যে ১৪০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ, তাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দলগুলো আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলেই নতুন নতুন উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।