- Home
- World News
- International News
- Pakistan Economic Crisis: পাকিস্তানে পেট্রোল ৪০০ টাকা লিটার! দেউলিয়া হয়ে গেল নাকি?
Pakistan Economic Crisis: পাকিস্তানে পেট্রোল ৪০০ টাকা লিটার! দেউলিয়া হয়ে গেল নাকি?
Pakistan Economic Crisis: পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ৪০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোয় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এত দাম বাড়ল তেলের? পাকিস্তান কি পুরোপুরি আর্থিক সংকটে ডুবে গেছে? দেশটা কি সত্যিই দেউলিয়া হয়ে গেল?

পেট্রোলের দাম প্রায় ৪০০ টাকা ছুঁয়েছে
পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের কাছে এক লিটার পেট্রোল কেনা এখন রীতিমতো বিলাসিতা। সেখানে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪০০ টাকা ছুঁয়েছে। এই খবর ছড়াতেই পাকিস্তান সরকারিভাবে দেউলিয়া হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে দেউলিয়া ঘোষণা না হলেও, পাকিস্তানের অর্থনীতি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমানে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৩৮৯.১৪ টাকা থেকে ৩৯৩.৭৫ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আর হাইস্পিড ডিজেলের দাম একলাফে ৪২২ টাকা পার করে গেছে।

পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পেছনে মূলত পাঁচটি কারণ রয়েছে।
১. বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আর জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। পাকিস্তান পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
২. ডলারের আকাল: আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাকিস্তান ডলারে তেল কেনে, কিন্তু দেশের মানুষের কাছ থেকে টাকায় দাম নেয়। তেলের দাম বাড়লে বেশি ডলার লাগে, যা পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে মারাত্মক চাপ ফেলেছে।
৩. ট্যাক্স আর লেভি: আন্তর্জাতিক দামের পাশাপাশি, পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ১১৪ টাকা ট্যাক্স এবং পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট লেভি চাপাচ্ছে।
৪. ঋণের পাহাড়: ২০২৫ সালের জুন মাসের হিসেবে পাকিস্তান প্রায় ৮০.৫২ ট্রিলিয়ন টাকার সরকারি ঋণে ডুবে আছে, যা তাদের জিডিপির ৭০.৭ শতাংশ।
৫. বিদেশি ফান্ডের ওপর নির্ভরতা: পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রোগ্রামের অধীনে চলছে। তাদের শর্ত মেনে ভর্তুকি তুলে নেওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।
পাকিস্তান আপাতত টিকে আছে
খাতায়-কলমে বলতে গেলে, না। কোনো দেশ যখন বিদেশি ঋণ মেটাতে পারে না, তখন তাকে 'সভরেন ডিফল্ট' বা দেউলিয়া বলা হয়। পাকিস্তান এখনও সেই পর্যায়ে যায়নি। আইএমএফ, চিন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বন্ধু দেশগুলোর দেওয়া বেইলআউট ফান্ড আর ঋণ পুনর্গঠনের জেরে পাকিস্তান আপাতত টিকে আছে।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের কাছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩.৭২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রয়েছে। তাই দেশটা পুরোপুরি সুরক্ষিত না হলেও, সরকারিভাবে এখনও দেউলিয়া হয়নি।
সাধারণ মানুষের কাছে কিন্তু এই পরিস্থিতি দেউলিয়া হওয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কারণগুলো হলো:
• বিশাল ঋণের কারণে সুদ দেওয়ার চাপ বেড়েই চলেছে।
• বিদেশি মুদ্রার অভাবে আইএমএফ-এর দ্বারস্থ হওয়ায় আর্থিক কড়াকড়ি বেড়েছে।
• আইএমএফ-এর শর্ত মেনে পেট্রোল আর বিদ্যুতের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে।
• জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ আকাশ ছুঁয়েছে, যার সরাসরি কোপ পড়ছে আমজনতার ওপর।
• নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় মারাত্মক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
এই সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বলেই পাকিস্তান দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
অর্থনীতির ওপর পড়েছে চাপ
পেট্রোলের এই দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়িচালকদের ওপর নয়, গোটা অর্থনীতির ওপর পড়েছে। বাস আর অটোর ভাড়া হু হু করে বেড়েছে। শাকসবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহণ খরচ বাড়ায় মূল্যবৃদ্ধি চরম আকার নিয়েছে। ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার বাইক আর অটোর জন্য লিটার প্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত অস্থায়ী ভর্তুকি ঘোষণা করলেও, তা মোটেও যথেষ্ট নয়।
বিশাল ঋণের বোঝা, ডলারের আকাল, বিদেশি ফান্ডের ওপর নির্ভরতা আর বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট—সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্যাক্স আদায় বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার না করলে আগামী দিনে পাকিস্তানকে আরও বড় জ্বালানি সংকটে পড়তে হবে।

