সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্টে ২৪ হাজার বছর ধরে বরফের নিচে জমে ছিল এক কোষী রোটিফার। রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা আলাজেয়া নদীর তীর থেকে বরফ তুলে ল্যাবে গলাতেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

World News: সাইবেরিয়ার বরফের নিচে টাইম মেশিন। ২৪ হাজার বছর আগে, যখন ম্যামথ ঘুরত, মানুষ গুহায় ছবি আঁকত, তখন বরফে আটকে গিয়েছিল একফোঁটা জল। সেই জলের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিল এক অতিক্ষুদ্র জীব। নাম ডেলয়েড রোটিফার। খালি চোখে দেখা যায় না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাশিয়ার সয়েল ক্রায়োলজি ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা আলাজেয়া নদীর ধারে ৩.৫ মিটার গভীর পারমাফ্রস্ট খুঁড়ে বরফ তোলেন। কার্বন ডেটিং করে চমকে যান। বরফের বয়স ২৩,৯৬০ থেকে ২৪,৪৮৫ বছর। সেই বরফ ধীরে ধীরে গলিয়ে পেট্রি ডিশে রাখতেই ম্যাজিক। কয়েক সপ্তাহ পর মাইক্রোস্কোপে দেখা গেল নড়ছে, খাচ্ছে, এমনকি পার্থেনোজেনেসিস পদ্ধতিতে নিজে নিজেই বাচ্চা দিচ্ছে সেই প্রাচীন রোটিফার।

কীভাবে বাঁচল ২৪ হাজার বছর?

এর নাম ক্রিপ্টোবায়োসিস। মানে ‘গুপ্ত জীবন’। বিপদ দেখলেই এরা শরীরের সমস্ত জল বের করে দেয়, মেটাবলিজম শূন্যে নামিয়ে আনে। কোষের ভিতর বরফের ক্রিস্টাল তৈরি হয় না, ফলে কোষ ফাটে না। একেবারে ‘সুইচ অফ’ হয়ে যায়। তাপমাত্রা, খাবার, জল ঠিকঠাক পেলেই আবার ‘সুইচ অন’। বিজ্ঞানীরা আগে ৬-১০ বছরের জন্য ঘুমন্ত রোটিফার জাগিয়েছেন। কিন্তু ২৪ হাজার বছর? এটা বিশ্বরেকর্ড।

গবেষক স্ট্যাস মালাভিন বলছেন, “আমরা প্রমাণ করলাম বহুকোষী প্রাণীও হাজার হাজার বছর ক্রিপ্টোবায়োসিসে থাকতে পারে। এর DNA বিশ্লেষণ করে দেখছি, আজকের রোটিফারের সঙ্গে মিল আছে। কিন্তু বরফে থাকতে থাকতে কিছু জিন বদলেছে।”

এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ? ৩টে কারণ:

১. অঙ্গ সংরক্ষণে বিপ্লব:

হার্ট, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় মেলে। ক্রিপ্টোবায়োসিসের রহস্য ফাঁস হলে ভবিষ্যতে মানব অঙ্গ বছরের পর বছর বরফে রাখা যাবে। অঙ্গের অভাবে মৃত্যু কমবে।

২. মহাকাশ যাত্রা:

মঙ্গল বা দূরের গ্রহে যেতে কয়েকশো বছর লাগবে। মানুষকে ‘হাইবারনেশনে’ পাঠানো যাবে কি না, এই রোটিফার তার উত্তর দিতে পারে।

৩. জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়:

সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্ট গলছে। বরফের নিচে শুধু রোটিফার নয়, ৩০ হাজার বছরের পুরনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অ্যানথ্রাক্সের স্পোর ঘুমিয়ে আছে। উষ্ণায়নে বরফ গললে তারা জেগে উঠে নতুন মহামারী আনতে পারে। ২০১৬ সালে সাইবেরিয়ায় অ্যানথ্রাক্সে ১টা বাচ্চা মারা গেছে, ৯০টা হরিণ মরেছে। কারণ ৭৫ বছর পর গলে যাওয়া বলগা হরিণের মৃতদেহ থেকে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায়।

শেষ কথা:

২৪ হাজার বছরের ঘুম ভাঙিয়ে বিজ্ঞানীরা খুশি। কিন্তু প্রকৃতি কী বার্তা দিচ্ছে? বরফ গললে আমরা শুধু প্রাচীন জীব নয়, প্রাচীন অভিশাপও জাগিয়ে তুলছি কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।