সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বাড়তেই সামরিক সাহায্য নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই তিন দেশ এবার যৌথ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এদিকে ইরান জানিয়েছে এই হামলায় তাদের কোনো হাত নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে।
রিয়াদ: সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর আর গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলোতে হুথিদের হামলা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদিকে সামরিক দিক থেকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সৌদি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা খুব শিগগিরই একটি জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন।
মিসাইল ও ড্রোন হামলা
মক্কা, জেদ্দা এবং ইয়ানবু শহরকে টার্গেট করে হুথিরা বেশ কয়েকটি মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপরেই গোটা সৌদি আরবে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, এই চুক্তিতে থাকা কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে ধরে নেওয়া হবে। আর তিন দেশ একজোট হয়ে সেই হামলার কড়া জবাব দেবে।
ইয়েমেনের হুথিদের এই হামলায় ইরানের কোনো ভূমিকা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'হুথিরা যা করছে, তার দায় সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের।' পাশাপাশি ইরান শর্ত দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হলে আমেরিকাকে লেবানন সহ সব জায়গা থেকে যুদ্ধ থামাতে হবে। এছাড়া তাদের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং আটকে রাখা তহবিলও ছেড়ে দিতে হবে।
এদিকে, ইরানি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় কোনো দেশের সংস্থার ওপর আমেরিকা 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। এর জেরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান তাদের দেশে ইরানি বিমানের উড়ান নিষিদ্ধ করেছে। এই অঞ্চলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও, হুথি এবং হিজবুল্লাহর লাগাতার হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে ফের যুদ্ধের আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে।


