বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরেই অনুমান করে আসছিলেন যে স্তন্যপায়ীদের উত্তরসূরিরাও প্লাটিপাস এবং একিডনার মতোই ডিম পাড়ত। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য ছিল না।
স্তন্যপায়ী প্রাণীরা জন্ম দেয় বাচ্চা, ডিম পাড়ে না - এই ধারণাই এতদিন প্রচলিত ছিল। কিন্তু ২৫ কোটি বছরের পুরনো এক জীবাশ্ম সেই ধারণা একেবারে পাল্টে দিল। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এরা ডিম পাড়ে না। সন্তান প্রসব করে। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য রয়েছে। যেমন— প্লাটিপাস, একিডনা। এরা স্তন্যপায়ী হলেও ডিম পাড়ে।
বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরির ডিমের ভিতর ভ্রূণের সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে আমাদের পূর্বপুরুষরাও একসময় ডিমই পাড়ত।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ অঞ্চল থেকে ২০০৮ সালে উদ্ধার হওয়া এই জীবাশ্মটি ছিল লিস্ট্রোসরাস নামের এক প্রাণীর। দেখতে অনেকটা শূকরের মতো, গায়ে লোম নেই, কচ্ছপের মতো ঠোঁট আর দুটি বেরিয়ে থাকা দাঁত। প্রায় ২৫২ কোটি বছর আগে পার্মিয়ান- ট্রায়াসিক গণবিলুপ্তির পর এই প্রাণীই পৃথিবীতে টিকে ছিল। কিন্তু এতদিন ধরে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন না এরা ডিম পাড়ত নাকি বাচ্চা প্রসব করত।
রহস্যের সমাধান এল ফ্রান্সের ইউরোপিয়ান সিঙ্ক্রোট্রন রেডিয়েশন ফ্যাসিলিটির শক্তিশালী এক্স-রে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে। স্ক্যানে দেখা গেল, জীবাশ্মের ভিতরে কুঁকড়ে থাকা ভ্রূণের নিচের চোয়ালের হাড় পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। এই বৈশিষ্ট্য শুধু আধুনিক কচ্ছপ আর পাখির মধ্যে দেখা যায়, যেখানে হাড় জোড়া লাগে ডিম ফুটে বেরোনোর অনেক পরে। অর্থাৎ, এই ভ্রূণটি ডিমের ভিতরেই মারা গিয়েছিল।
গবেষকদের মতে, এই ডিমগুলো সম্ভবত নরম ও চামড়ার মতো ছিল। ডাইনোসরের মতো শক্ত খোলস না থাকায় এগুলো সহজে জীবাশ্ম হয় না, তাই এতদিন ধরা পড়েনি। বড় আকারের এই নরম ডিম কঠিন পরিবেশে শুকিয়ে যাওয়া থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করত এবং ভ্রূণ পরিণত অবস্থায় বেরিয়ে এসে দ্রুত খাবার খেতে ও শিকারির হাত থেকে বাঁচতে পারত।
লিস্ট্রোসরাস ছিল থেরাপসিড গোষ্ঠীর সদস্য - যা আধুনিক স্তন্যপায়ী ও মানুষের দূরবর্তী পূর্বপুরুষ। এই আবিষ্কার স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল। বিজ্ঞানীদের কথায়, এটাই প্রথম সরাসরি প্রমাণ যে স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরিরা ডিম পেড়েই বংশবৃদ্ধি করত।


