Time Travel Video: “আমি ৯২ বছর ভবিষ্যতে গিয়েছিলাম। সাল ২১১৮। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ। পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যা নেই। আকাশ লাল, জল কিনতে হয়।” মুখে কালো মাস্ক, হাতে ভবিষ্যতের ‘প্রমাণ’ নিয়ে ক্যামেরার সামনে বসে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করল এক যুবক। নিজেকে ‘নোয়া’ নামে পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের ভিডিও গত ৪৮ ঘণ্টায় ২ কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে।
Time Travel: টাইম মেশিন, ভবিষ্যৎ, বিশ্বযুদ্ধ। হলিউড সিনেমার প্লট এবার বাস্তবের মাটিতে? ইউটিউব চ্যানেল ‘ApexTV’-তে পোস্ট হওয়া ১৮ মিনিটের একটা ভিডিও ঘিরে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২৫-২৬ বছর বয়সী এক যুবক। মুখ ঢাকা, কণ্ঠস্বর বদলানো। দাবি করছে, তার আসল নাম বলা যাবে না, সিক্রেট মিশনের কারণে সে ‘নোয়া’ নাম নিয়েছে।

কী দেখেছে নোয়া ২১১৮ সালে?
নোয়ার দাবি অনুযায়ী, টাইমলাইনটা এমন:
১. ২০৩১: দক্ষিণ চিন সাগরে চিন ও আমেরিকার নৌ-সংঘর্ষ থেকে শুরু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। রাশিয়া, ন্যাটো জড়িয়ে পড়ে।
২. ২০৩৪: রাশিয়া টোকিওতে ও আমেরিকা পিয়ংইয়ংয়ে পারমাণবিক হামলা চালায়। ৩ দিনে মারা যায় ১২ কোটি মানুষ।
৩. ২০৪০: যুদ্ধ শেষ। কিন্তু রেডিয়েশনের কারণে আকাশের রঙ পাল্টে লালচে হয়ে গেছে। ক্যান্সার মহামারির আকার নেয়।
৪. ২১১৮: পৃথিবীর জনসংখ্যা ৩৫০ কোটিতে নেমেছে। পানীয় জল কোম্পানির দখলে। সরকার বলে কিছু নেই। গোটা দুনিয়া চালায় ৫টা টেক জায়ান্ট। মানুষ মঙ্গল ও চাঁদে কলোনি করেছে। টাইম ট্রাভেল তখন স্কুলের সিলেবাসে পড়ানো হয়।
প্রমাণ হিসেবে নোয়া একটা ঝাপসা ছবি দেখায়। দাবি করে, ওটা ২১১৮ সালের লাস ভেগাস শহর। আকাশ লাল, বিল্ডিং অর্ধেক ভাঙা। আর দেখায় হাতের তালুতে বসানো একটা ‘মাইক্রোচিপ’। বলে, ২১১৮ সালে জন্মের সময়ই সবার হাতে এটা বসিয়ে দেওয়া হয়। এটাই আইডি, ব্যাংক, মেডিকেল রিপোর্ট সব।
বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
ISRO-র প্রাক্তন বিজ্ঞানী ড. তপন মিশ্র সাফ জানালেন, “পুরোটাই ভাঁওতা। আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাওয়া তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব, কিন্তু তার জন্য আলোর গতিবেগে ছুটতে হবে। সেই টেকনোলজি এখনও ১০০০ বছর দূরে। আর অতীতে ফেরা তো অসম্ভব। প্যারাডক্স তৈরি হবে।” তিনি আরও বলেন, নোয়ার দেখানো ‘ভবিষ্যতের ছবি’ AI দিয়ে বানানো। একটু জুম করলেই বিল্ডিংয়ের জানালা বেঁকে যাচ্ছে, এটা AI-এর ভুল। মনোবিদ ডা. অনুরাধা সোয়ানির মতে, “এটা ‘ডিলিউশন’ বা ভ্রান্ত বিশ্বাস। অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য অনেকে এমন গল্প বানায়। ২০১৮ সালেও এক ‘জন টিটর’ নামে লোক একই দাবি করেছিল। পরে ধরা পড়ে যায়।”
তাহলে মানুষ বিশ্বাস করছে কেন?
১. ডিপফেকের যুগ: AI দিয়ে এখন নিখুঁত ভিডিও, ছবি, গলা নকল করা যায়। সাধারণ মানুষ ধরতে পারে না।
২. বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া, ইজরায়েল-ইরান, চিন-তাইওয়ান সংঘাতের কারণে মানুষের মনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয় ঢুকে গেছে। তাই এমন গল্প দ্রুত ভাইরাল হয়।
৩. রহস্য-রোমাঞ্চ: মানুষ6"I went to the year 2118 and saw World War III!" – Young man's time-travel video goes viral, sparking a stir online. লজিকের চেয়ে গল্প ভালোবাসে। ‘কী হবে যদি সত্যি হয়?’ এই ভাবনাটাই ক্লিক করায়।
ApexTV আসলে কারা?
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই চ্যানেল আগেও বহু ‘টাইম ট্রাভেলার’-এর ইন্টারভিউ ছেড়েছে। ২০২০ সালে একজন বলেছিল ২০২৩-এ ‘এলিয়েন অ্যাটাক’ হবে। হয়নি। ২০২২-এ একজন বলেছিল ২০২৫-এ পৃথিবীতে ‘জম্বি’ আসবে। আসেনি। ইউটিউবের নিয়ম অনুযায়ী এটা ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ ক্যাটাগরিতে পড়ে। অর্থাৎ বানানো গল্প।
আপনার কী করা উচিত?
১. ভয় পাবেন না। কোনও টাইম ট্রাভেলারের কথা শুনে ব্যাংক থেকে টাকা তুলবেন না বা জমি বিক্রি করবেন না।
২. ভিডিও শেয়ার করার আগে ‘Fact Check’ লিখে গুগল করুন। PIB Fact Check, Alt News দেখুন।
৩. বাচ্চাদের সামনে এই ভিডিও চালাবেন না। রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে পারে।
টাইম ট্রাভেল মানুষের চিরকালের ফ্যান্টাসি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ মেলেনি। নোয়ার গল্পও সেই ফ্যান্টাসিরই নতুন ভার্সন। বিশ্বযুদ্ধ হবে কিনা সেটা ঠিক করবে আজকের রাষ্ট্রনেতারা, কোনও ‘টাইম ট্রাভেলার’ নয়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


