মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এরই মধ্যে আমেরিকার মনোভাবে বদলের ইঙ্গিত। ইরানের সঙ্গে চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পরেও ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসছেন বলে মনে হচ্ছে। কেন চুক্তি ছাড়াই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার আলোচনা শুরু হয়েছে, জেনে নিন।

Trump Iran Strategy: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানে হওয়া শান্তি আলোচনা কোনও পাকাপোক্ত সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু এই ঘটনা একটা নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, আমেরিকা কি কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে? ওয়াশিংটন থেকে আসা ইঙ্গিতগুলো সেদিকেই इशारा করছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, প্রথমদিকের আগ্রাসী মনোভাবের পর আমেরিকার কৌশলে একটা বড় বদল এসেছে, আর এর কেন্দ্রে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুরুতে আগ্রাসী, এখন কেন সতর্ক?

ব্রিটিশ ম্যাগাজিন The Economist-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্পের বিশ্বাস ছিল যে সেনা নামিয়েই তিনি নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পারছেন যে এই পথে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। আর সেই কারণেই আমেরিকা এখন সরাসরি সংঘাত থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে।

ইসলামাবাদ বৈঠকের পর বদলানো সুর

ইসলামাবাদে আলোচনার আগে ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি সাফ বলেছিলেন, চুক্তি না হলে “তেহরানকে বড়সড় যন্ত্রণা দেওয়া হবে”। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরেও আমেরিকা কোনও সামরিক হামলা চালায়নি। উল্টে, আমেরিকা নিজেদের কৌশল বদলে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে চাপ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে।

আমেরিকা ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই জলপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপ এটাই দেখাচ্ছে যে এখন সরাসরি যুদ্ধের বদলে অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত চাপের নীতি নেওয়া হচ্ছে।

চুক্তি কেন এত কঠিন?

এই মামলার সবচেয়ে বড় প্যাঁচ হল, ইরান একচুলও জমি ছাড়তে রাজি নয়।

  • ইরান দেশের বাইরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Enrichment) প্রক্রিয়া নিয়ে যেতে অস্বীকার করেছে।
  • তাদের বক্তব্য, তারা নিজেদের শর্তেই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে।
  • একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর টোল বসানোর দাবিও করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের মতো কোনও চুক্তিতে ফেরা বেশ কঠিন। ট্রাম্পের জন্যও এটা একটা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, কারণ একটা দুর্বল চুক্তি তাঁর ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর চিন্তা বাড়ছে

এই পুরো ঘটনার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর ওপরেও পড়ছে। সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করতে পাকিস্তানের প্রায় ১৩ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতারও নিজেদের মতো করে সুরক্ষা প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। এই দেশগুলোর ভয়, আমেরিকা হঠাৎ করে পিছিয়ে যেতে পারে, তাই তারা আগে থেকেই নিজেদের সুরক্ষিত করতে চাইছে।

যুদ্ধের আসল ঝুঁকিটা কী?

আমেরিকান সংবাদপত্র The Washington Post-এর মতে, যদি এই সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে মাটিতে সেনা নামানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর ট্রাম্প ঠিক এই পরিস্থিতিটাই এড়াতে চাইছেন। মাটিতে নেমে যুদ্ধ মানেই লম্বা লড়াই, বিপুল খরচ আর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি।

আমেরিকার নতুন কৌশল কী?

এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চাপের রাজনীতি করতে চাইছে।

  • সরাসরি হামলা এড়িয়ে যাওয়া।
  • অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়ানো।
  • আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করা।
  • আর এই সময়ের মধ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।

অর্থাৎ, কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই “যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার” একটা রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু আমেরিকার মনোভাবে বদলটা স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তাড়াহুড়ো করে কোনও বড় পদক্ষেপ করার মেজাজে নেই।

আগামী দিনে এটাই দেখার, আমেরিকা কি সত্যিই চুক্তি ছাড়া এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসে, নাকি পরিস্থিতি আবার নতুন মোড় নেয়।