কোয়াড বৈঠকের আগে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ভবিষ্যতে শক্তির এক বড় লাইফলাইন হয়ে উঠবে। তিনি আরও জানান, এই বৈঠকের পর বলার মতো অনেক 'ভালো গল্প' থাকবে। কোয়াডকে তিনি নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থায় বিশ্বাসী কয়েকটি সামুদ্রিক গণতান্ত্রিক দেশের জোট হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজধানী দিল্লিতে কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের আগেই বড় মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ মে-র এই বৈঠকের আগে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ভবিষ্যতে শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হয়ে উঠবে। তাঁর কথায়, বৈঠকের পর নেতাদের কাছে বলার মতো একটা 'ভালো গল্প' থাকবে।

ইন্দো-প্যাসিফিক: শক্তির লাইফলাইন
মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কোয়াড গোষ্ঠী নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর এই কথা বলেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েই কোয়াডের বর্তমান চেহারাটা তৈরি হয়েছিল এবং রুবিওর সঙ্গে প্রথম থেকেই কোয়াড নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। জয়শঙ্কর বলেন, "ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এটি এমনকি এক বড় শক্তির লাইফলাইন হয়ে দাঁড়াবে।"
বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, শক্তি এবং বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, "কোয়াডের কাজ চলছে এবং দু'দিন পরেই আপনারা আমাদের মঞ্চে কোয়াড নিয়ে কথা বলতে দেখবেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমাদের কাছে বলার মতো একটি ভালো ও শক্তিশালী গল্প থাকবে।"
নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতা
রুবিওর সঙ্গে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, "আমি খুশি যে আপনি সামুদ্রিক গণতন্ত্র (maritime democracies) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, কারণ দুটি শব্দই খুব প্রাসঙ্গিক।"
তিনি বলেন, "আমরা একে অপরের সঙ্গে অনেক কাজ করছি কারণ আমরা সামুদ্রিক শক্তি এবং আমি দেখছি এটা আরও বাড়বে। আমরা গণতান্ত্রিক শক্তি হওয়ার কারণেও একসঙ্গে অনেক কাজ করছি, কারণ আমাদের কাজ করার একটা নির্দিষ্ট ধরণ, একটা বিশ্বাস এবং কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে।"
জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন যে কোয়াডের লক্ষ্য একটি নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা করা। তাঁর মতে, "বাজার অর্থনীতি এবং মুক্ত সমাজ" হিসেবে সদস্য দেশগুলো চায় "ব্যবসা এবং জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চলুক।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা বাজার অর্থনীতি, আমরা মুক্ত সমাজ। আমরা চাই ব্যবসা এবং জীবন আন্তর্জাতিক আইন ও বাজারের নিয়ম মেনে চলুক। তাই আমাদের জন্য, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, যা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পাবে, সেখানে সামুদ্রিক গণতন্ত্র হিসেবে কোয়াডের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ঠিক এটাই আপনারা দু'দিন পর দেখতে পাবেন।"
দিল্লিতে বসছে কোয়াড মন্ত্রীদের বৈঠক
এই আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারত এক বড় কূটনৈতিক বৈঠকের আয়োজন করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য কোয়াড দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে এই বৈঠক বসতে চলেছে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানকে নিয়ে গঠিত এই চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংলাপ বা কোয়াডের বৈঠকটি ২৬ মে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে।


