রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতের সাহায্য চাইল কিয়েভ।

সম্প্রতি কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভার (UNGA) ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি জানান, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ভারতের উদ্যোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ইউক্রেন। বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

শান্তি ফেরাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে জোর ইউক্রেনের

এক্স (X) হ্যান্ডেলে সিবিহা লেখেন, শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে তার প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, "ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করতে পেরে আমি আনন্দিত। বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া খুব জরুরি। এই বিষয়ে ইউক্রেন গঠনমূলক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি ভারতের অংশগ্রহণকেও আমরা সম্মান জানাই।"

ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক আন্তঃসরকারি কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও এদিন আলোচনা হয়। সিবিহা জানান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধের মতো একাধিক ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সক্রিয় অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী ইউক্রেন। ইউক্রেনের মন্ত্রী আরও বলেন, "খুব শিগগিরই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আন্তঃসরকারি কমিশনের পরবর্তী বৈঠক হবে। সেখানে উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়ে ব্যবসার প্রসারে আলোচনা হবে।"

এই বৈঠক নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন জয়শঙ্করও। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর ইউক্রেন সফরের পর থেকে কী কী পরিবর্তন হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ মিলেছে এই বৈঠকে। বিদেশমন্ত্রী লেখেন, "আমার সাম্প্রতিক ইউক্রেন সফরের পর বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে ফের দেখা করার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। গত কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া নানা বিষয় নিয়েই মূলত আমাদের কথা হয়েছে।"

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা

নিউ ইয়র্কে মলডোভার বিদেশমন্ত্রী মিহাই পপসোইয়ের সঙ্গেও দেখা করেন জয়শঙ্কর। এক্স-এ তিনি লেখেন, "রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় মলডোভার বিদেশমন্ত্রী মিহাই পপসোইয়ের সঙ্গে দারুণ বৈঠক হল। আমাদের দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাত নিয়েও আমরা নিজেদের মতামত বিনিময় করেছি।"

রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভার ফাঁকে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে 'পার্টনারস ফর মাল্টিল্যাটারালিজম, ইন্টারন্যাশনাল ল, পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি' (P4M) সামিটের সহ-সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর।

বহুপাক্ষিকতাবাদ সংস্কারের ওপর জোর

এক্স-এ বিদেশমন্ত্রী জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। চলমান সংঘাতের নির্দিষ্ট দিকগুলো মোকাবিলা করা, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের গুরুত্ব এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থায় আশা ও ইতিবাচক দিক ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও জোর দেন জয়শঙ্কর।

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় অংশ নিতে গিয়েই এই সমস্ত কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।