মঙ্গলবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইছে আমেরিকা। আর সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কীভাবে হামলা কমানো যায় এবং ফের আলোচনা শুরু করা যায়, তা নিয়ে দুই নেতার কথা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক

নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকেই এই বৈঠকটি হবে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী রুস্তেম উমেরভ হোয়াইট হাউসের দূতেদের সঙ্গে মিলে এই বৈঠকের আয়োজন করছেন। উমেরভ ইউক্রেনের ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেরও প্রধান।

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে সম্প্রতি ফোনে কথা হয়। সেখানেই তাঁরা নিউইয়র্কে দেখা করার বিষয়ে একমত হন।

এই ফোনালাপকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, এর ফলে কূটনৈতিক স্তরে একটা গতি এসেছে।

এক্স (X) হ্যান্ডেলে জেলেনস্কি লিখেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এইমাত্র কথা হল। খুব জরুরি একটা আলোচনা হয়েছে, অনেক বিষয় উঠে এসেছে। আমরা নিউইয়র্কে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বৈঠক অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। কূটনৈতিক স্তরে একটা গতি এসেছে।"

তেল শোধনাগারে হামলায় নিষেধ ট্রাম্পের

অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট বলছে, ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প বারবার জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করতে বলেন। কারণ, এই হামলার জেরে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে এবং ডিজেলের দাম বাড়ছে। এই ফোনালাপ সম্পর্কে জানেন এমন এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, "ফোনে কথা বলার সময় ডিজেল শব্দটা অনেকবার ব্যবহার করা হয়েছে।"

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আমেরিকার এই উদ্যোগে জ্বালানি পরিকাঠামোর বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেলেনস্কি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে হামলা না করার শক্ত গ্যারান্টি দেয়, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধ করতে পারে।

মার্কিন-ইউক্রেন আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে কিয়েভে পাঠানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, এই দূতেরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেছেন এবং ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, "শান্তি ফেরানোই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার।" তিনি আরও জানান, উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য উপায় এবং জ্বালানি, খাদ্য ও মানুষের জীবন রক্ষার মতো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক স্তরে নানা চেষ্টা চললেও, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। যুদ্ধ যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই নিউইয়র্কের এই বৈঠকটি হতে চলেছে।

সংঘাত মেটাতে বড় পরিসরে আলোচনা শুরুর পাশাপাশি, আপাতত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজছেন মার্কিন আধিকারিকরা। অ্যাক্সিওস আগেই জানিয়েছিল, আলোচনা ফের শুরু করার চেষ্টার অংশ হিসেবে শীতকালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

নিউইয়র্কে ৮১তম রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার জন্য বিশ্বের তাবড় নেতারা জড়ো হচ্ছেন। সেখানেই এই বৈঠকটি হবে। এই হাই-প্রোফাইল সপ্তাহে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে ইউক্রেন সংঘাতই উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।