কলোরাডোর বাসিন্দা জ্যাকব হুটজলার রাস্তা আর ট্রাফিক জ্যামের বদলে খোলা আকাশকেই বেছে নিয়েছেন। গাড়ি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ভরসায় না থেকে তিনি আকাশপথে উড়ে মাত্র ২০ মিনিটে নিজের কর্মস্থলে পৌঁছে যান।
রোজকার অফিস যাতায়াত মানেই অনেকের কাছে এক চরম বিরক্তির বিষয়। রাস্তায় গাড়ির লম্বা লাইন, বাসের ভিড় আর রোজকার দেরি—সব মিলিয়ে একাকার অবস্থা। ঠিক যেমন আমাদের শহরের নিত্যদিনের যানজট! কিন্তু আমেরিকার এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এই জ্যাম এড়ানোর এক দারুণ উপায় বের করেছেন। তিনি সোজা প্যারামোটরে উড়ে অফিসে পৌঁছে যান।
কলোরাডোর বাসিন্দা জ্যাকব হুটজলার রাস্তা আর ট্রাফিক জ্যামের বদলে খোলা আকাশকেই বেছে নিয়েছেন। গাড়ি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ভরসায় না থেকে তিনি আকাশপথে উড়ে মাত্র ২০ মিনিটে নিজের কর্মস্থলে পৌঁছে যান।
জ্যাকবের এই অদ্ভুত যাতায়াতের পদ্ধতি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে দেখিয়েছেন কীভাবে তিনি প্যারামোটরে উড়ে অফিসে যান। ওই ভিডিওতে তাঁর ওড়ার আগের প্রস্তুতি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কথাবার্তা এবং তাঁর অফিসের কাছেই বিমানবন্দরের আশেপাশে ল্যান্ড করার দৃশ্য দেখা গেছে।
প্যারামোটরে উড়ে কীভাবে অফিসে যান তিনি?
জ্যাকব বুঝিয়ে বলেন, "একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে আমি এভাবেই প্যারামোটরে উড়ে অফিসে যাই। প্যারামোটর হলো মূলত প্রপেলার ব্যাকপ্যাক লাগানো একটি প্যারাগ্লাইডার। পিঠে মোটর আর প্রপেলার বেঁধে, পায়ে হেঁটে দৌড় শুরু করলেই আকাশে ওড়া যায়।"
আকাশে ওড়ার এই সরঞ্জামের বিষয়েও তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি ওজোন সিরোকো ৩ ১৮এম উইংয়ের সঙ্গে প্যারাজেট ম্যাভেরিক ব্যবহার করি। ম্যাভেরিক সেটআপটা সত্যিই দারুণ। আর সিরোকো ৩ আমাকে স্পিড, পারফরম্যান্স আর কন্ট্রোলের একটা পারফেক্ট ব্যালেন্স দেয়।"
সাধারণ বিমানের মতো এর জন্য কোনো রানওয়ের দরকার হয় না। পাওয়ারড ব্যাকপ্যাক আর প্যারাগ্লাইডার উইং ব্যবহার করে পাইলট পায়ে হেঁটেই উড়ান শুরু করতে পারেন। এই সেটআপের কারণেই জ্যাকবকে ওড়ার জন্য কোনো প্রথাগত রানওয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
তাঁর এই যাত্রা শুরু হয় নিজের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাইরের রাস্তা থেকেই। সেখানে তিনি তাঁর উইং বিছিয়ে নেন, সরঞ্জাম ঠিক করেন এবং ওড়ার আগে প্রয়োজনীয় সব চেকিং সেরে নেন।
ল্যান্ড করার আগে ক্লিয়ারেন্স নেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার
এই যাতায়াতকে খুব সহজ শর্টকাট মনে হলেও, জ্যাকবের এই উড়ানের জন্য এয়ারস্পেসের নিয়মকানুন খুব কড়াভাবে মেনে চলতে হয়। জ্যাকব বলেন, "টাওয়ার পর্যন্ত এটা মাত্র ২০ মিনিটের উড়ান। তবে ক্লাস ডেল্টা এয়ারস্পেসে ঢোকার আগে আমাকে টাওয়ারের সঙ্গে টু-ওয়ে কমিউনিকেশন বা দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়।"
ওড়ার সময় তিনি কন্ট্রোল টাওয়ারে থাকা তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি লো-অ্যাপ্রোচ এবং বিমানবন্দরের দক্ষিণ দিকে ল্যান্ড করার অনুমতি চান। ভিডিওতে ধরা পড়া এই কথোপকথন থেকে দর্শকরা বুঝতে পারেন যে, এই ধরনের ব্যতিক্রমী যাতায়াতের জন্যও কতটা নিখুঁত সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। টাওয়ার থেকে উত্তর আসে, "প্যারামোটর পাপা জুলিয়েট, আপনার অনুরোধ মঞ্জুর করা হলো। নিজের ঝুঁকিতে ল্যান্ড করুন। সাবধানে থাকবেন, বাতাস এখন শান্ত।"








