মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি ইরানের তেলের দখল করে নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করবেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন হয়ত দেশটির তেলের প্রধান রফতানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ড (Kharg Island) দখল করে নিতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্য আসার আগেই এটা আগেই অনুমান করা হয়েছিল যে ইরানে গ্রাউন্ড অপারেশন চালাতে পারে আমেরিকা ও ইজরায়েল।

Iran War: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) বলেছেন যে তিনি ইরানের তেলের দখল করে নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করবেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন হয়ত দেশটির তেলের প্রধান রফতানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ড (Kharg Island) দখল করে নিতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্য আসার আগেই এটা আগেই অনুমান করা হয়েছিল যে ইরানে গ্রাউন্ড অপারেশন চালাতে পারে আমেরিকা ও ইজরায়েল। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে খার্গ দ্বীপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "সত্যি বলতে কি আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হল ইরানের তেল দখল করে নেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেরই কিছু বোকা লোক প্রশ্ন তোলে আপনারা কেন এমনটা করছেন? আসলে ওরা বোকাসোকা মানুষ।"

ইরানের তেলের সিংহভাগ রফতানি

খার্গ দ্বীপ দিয়েই ইরানের তেলের সিংহভাগ রফতানি হয়ে থাকে। এই পদক্ষেপটি সংঘাতকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট যত ঘনীভূত হচ্ছে, তার প্রভাবে সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত এক মাসে তেলের দামের যে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা।

ট্রাম্প জানান যে পেন্টাগন বেশ কিছু সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রেখেছে। তিনি আরও বলেন, "হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করব, আবার হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াবে যে আমাদের সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করতে হবে।" দ্বীপটিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় না তাদের সেখানে কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই সেটি দখল করে নিতে পারব।"

সেনা বাড়াচ্ছে আমেরিকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থলভাগ দখল এবং তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার (holding operations) কাজে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ১০,০০০ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার প্রায় ৩,৫০০ সেনা, যাদের মধ্যে ২,২০০ জনই মেরিন সেনা—ওই অঞ্চলে এসে পৌঁছেছেন। এছাড়া আরও ২,২০০ মেরিন সেনা বর্তমানে গন্তব্যের পথে রয়েছেন। ওয়াশিংটন যখন সম্ভাব্য বিস্তৃত সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের আরও হাজার হাজার সেনাকে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হামলা চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, খার্গ দ্বীপে যে কোনও ধরনের হামলা চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এর ফলে মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে এবং সংঘাতের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হতে পারে। পাশাপাশি এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথটিকেও হুমকির মুখে ফেলে দেবে। এই সংঘাত ইতিমধ্যেই ইরান ও ইজরায়েলের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে চালানো এক হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হন এবং ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইজরায়েল লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে। এর ফলে সংঘাতের নতুন কোনও ফ্রন্ট বা রণাঙ্গন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়।

সামরিক হুমকি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প জানান যে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য তিনি ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলার মুখোমুখি হতে হবে।