হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের মতে, ইরানের বন্দরগুলিতে আমেরিকার অবরোধ আগামী ১০০ বছরের জন্য বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'কিস্তিমাত' বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, সমুদ্রপথে আমেরিকার এই নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যেখান থেকে তাদের জেতার কোনও উপায় নেই।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ফর পলিসি এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার স্টিফেন মিলার মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলিতে আমেরিকার অবরোধ বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড়সড় বদল এনেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি না করে, তাহলে তারা ইতিহাসে একটা 'ফুটনোট' হয়ে থেকে যাবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার এই অবরোধকে আমেরিকার ক্ষমতা, বিশেষ করে সমুদ্রপথে তাদের আধিপত্যকে আরও মজবুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আপনারা এখন ইরানে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার মধ্যে দিয়ে যা দেখছেন, তা হল আগামী ১০০ বছরের জন্য আমেরিকার ক্ষমতার সমীকরণকে পুরোপুরি নতুন করে সাজানো।"

মিলার ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং নৌবাহিনী রয়েছে, যা দিয়ে তারা যে কোনও বড় আন্তর্জাতিক সংঘাতের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।

ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ আরও দাবি করেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এমন এক অবস্থায় ফেলেছেন যেখান থেকে তাদের বেরোনোর পথ নেই। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে একটি বাক্সে বন্দী করে ফেলেছেন; তিনি কিস্তিমাত চালটি খেলে দিয়েছেন। তাই এখন ইরান যে পথই বেছে নিক না কেন, জিতবে আমেরিকাই।"

ইরানের সামনে কী কী পথ খোলা আছে, তারও একটি রূপরেখা দেন মিলার। তিনি বলেন, যদি ইরান চুক্তিতে রাজি হয়, তবে তা সব পক্ষের জন্যই ভালো হবে। কিন্তু যদি অবরোধের কারণে তেহরান দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটে, তাহলে গোটা বিশ্ব ইরানকে ছাড়াই এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, "যদি ইরান অবরোধের কারণে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বেছে নেয়, তাহলে বিশ্ব ইরানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে। নতুন জ্বালানি পথ তৈরি হবে, নতুন সাপ্লাই চেন তৈরি হবে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা বিশ্বকে শক্তি জোগাবে আর ইরান একটা ফুটনোট হয়ে থেকে যাবে।" মিলার আরও যোগ করেন যে এই বর্তমান নীতি আমেরিকাকে একটি "উইন-উইন পজিশনে" রেখেছে।

সেন্টকমের তরফে অবরোধের ঘোষণা

মিলারের এই মন্তব্যের পরেই বুধবার আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ঘোষণা করে যে ইরানের বন্দরগুলিতে সম্পূর্ণ অবরোধ সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলিতে মার্কিন বাহিনী নিজেদের সামুদ্রিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

একটি বিবৃতিতে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "অপারেশন শুরু হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে বের হওয়া এবং ইরানে ঢোকা সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।" বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানের আমদানি ও রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।”