ইরানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের এক আমূল ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে এখনও সমাহিত করা হয়নি। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার নিহত হওয়ার সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইরানি শাসনব্যবস্থা তাঁর কবরের স্থানটি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি।
ইরানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের এক আমূল ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে এখনও সমাহিত করা হয়নি। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার নিহত হওয়ার সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইরানি শাসনব্যবস্থা তাঁর কবরের স্থানটি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বর্তমানে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর সঙ্কট মোকাবিলাতেই পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, যুদ্ধের ব্যস্ততা নয়, বরং ভয়ের কারণেই খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এমন অস্বাভাবিক বিলম্ব হচ্ছে।
‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর বেনহাম তালেবলু ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে জানিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনেইয়ের প্রশাসন বর্তমানে আতঙ্কে আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও জাঁকজমকপূর্ণ স্মরণসভা বা শেষকৃতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার মতো অবস্থায় তারা নেই। ১৯৮৯ সালে খামেনেইয়ের পূর্বসূরি আয়াতোল্লা রুহুল্লাহ খোমেইনির শেষকৃত্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। তবে আলি খামেনেইয়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কারণ ইজরায়েল টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। সহজ কথায় বলতে গেলে, বর্তমান প্রশাসন এতটাই ভীত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা কোনও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
ইরানের পক্ষ থেকে এমন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, সম্ভাব্য ইজরায়েলি বিমান হামলা এবং দেশের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশটির প্রশাসন বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এই ধাঁধার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। যার অনুপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। মোজতবাকে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। শাসনব্যবস্থা যদি তাঁর বাবার কবরের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মোজতবার এই অনুপস্থিতির বিষয়ে তাদের অবশ্যই একটি ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তালেবলু বলেন, "এটি অনেক কিছুই বুঝিয়ে দেয় যে—১৯৮৯ সালে এই শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতার জানাজায় জনসমাগম ছিল এক বিশাল ব্যাপার। অথচ এক প্রজন্ম পরে তাঁর উত্তরসূরি মারা যাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর দাফনকার্য এখনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।" তিনি আরও যোগ করেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিজেদের রাস্তার নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে জাহির করতে পছন্দ করে এবং এ নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ায়। কিন্তু টানা ৫০ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনাই আপনাকে আসল সত্যটি জানিয়ে দেবে। শাসনব্যবস্থাটি সত্য প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরবর্তী পরিণতি নিয়ে ভীত।"
ওই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, শাসনব্যবস্থাটি কবরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদকে বিবেচনা করছে। এটি খামেনেইয়ের জন্মশহর এবং এটি ইরানের তুর্কমেনিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। যা ইজরায়েল থেকে বেশ অনেকটা দূরে।


