- Home
- World News
- International News
- Nepal Flood: নেপালের হড়পা বানের নেপথ্যে কোন রহস্য? পাতের সংঘর্ষ থেকে হিমবাহ গলা — জানুন আসল কারণ
Nepal Flood: নেপালের হড়পা বানের নেপথ্যে কোন রহস্য? পাতের সংঘর্ষ থেকে হিমবাহ গলা — জানুন আসল কারণ
Nepal Flood reason: বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপাল। ভোটেকোশীর হড়পা বান থেকে হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক গঠন — জানুন কেন বার বার প্রকৃতির রোষে পড়ে এই দেশ। দেখুন বিপর্যস্ত নেপালের ১০টি ভয়ঙ্কর ছবি।

ফের সংবাদ শিরোনামে নেপাল
হিমালয়ের কোলে থাকা ছোট্ট দেশ নেপাল বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। কয়েক বছর আগে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের তছনছ হয়েছিল নেপাল। ভোটেকোশী নদীতে সাম্প্রতিক হড়পা বান। নেপালের কয়েকটি জেলা কাদার তালে পরিণত হয়েছে। থমকে গেছে জীবন। চারদিকে শুধুউ সব হারানো আর সজন হারানোর হাহাকার। কিন্তু কেন নেপালেই এই প্রকৃতির তাণ্ডব? উঠে আসছে নেপালের প্রাকৃতিক অবস্থানের কথা।

ভৌগোলিক অবস্থানই আসল কারণ
ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটনিক পাতের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে নেপাল ভূমিকম্পপ্রবণ। দুই পাতের মধ্যে নিরন্তর সংঘর্ষ চলছে, যার ফলে প্রতি বছর ভারতীয় পাত গড়ে ৫ সেন্টিমিটার করে ইউরেশীয় পাতের নীচে প্রবেশ করছে।
এভারেস্টের গঠন প্রণালী
হিমালয় এখনও পৃথিবীর অন্যতম নবীন পর্বতশ্রেণি, যার ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পূর্ণ হয়নি। মাউন্ট এভারেস্টের গঠনপ্রণালীও এখনও সম্পন্ন হয়নি। ভারতীয় ও ইউরোপীয় পাতের সংঘর্ষের জেরে প্রতি বছর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৫ মিলিমিটার করে বাড়ছে।
হিমবাহ গলার হার দ্বিগুণ
'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস' পত্রিকায় প্রকাশিত ৪০ বছরের উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক গবেষণা বলছে, ২০০০ সালের পর হিমালয়ের হিমবাহ গলার গড় হার আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণেই গলছে হিমালের বরফ। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে ছোট্ট পাহাড়ি দেশটিকে।
চার দশকে গলে গিয়েছে চতুর্থাংশ হিমবাহ
গবেষণার প্রধান লেখক কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জোশুয়া মরার জানিয়েছেন, গত চার দশকে হিমালয়ের হিমবাহগুলির চার ভাগের এক ভাগই গলে গিয়েছে। বন ধ্বংস ও অপরিকল্পিত নির্মাণ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
একের পর এক বিপর্যয়ের তালিকা
২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডের চামোলি, একই বছর জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়াড়, ২০২৩ সালে সিকিমের সাউথ লোনাক হ্রদ বিপর্যয়, ২০২৫ সালে উত্তরকাশী-ধারালি — একের পর এক হিমালয় বিপর্যয় পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন ভূবিজ্ঞানীরা। আর এই বছর নেপাল।
বিপদসঙ্কেত রয়েছে ৪৭টি হিমবাহী হ্রদে
রাষ্ট্রপুঞ্জের ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোশী-গণ্ডকী-কার্নালি নদী অববাহিকায় ৪৭টি হিমবাহী হ্রদ থেকে বিপর্যয় নামার আশঙ্কা রয়েছে । এর মধ্যে ২৫টি তিব্বতে, ২১টি নেপালে, একটি ভারতে।
প্রশ্নের মুখে চিনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর (ভারতে প্রবেশের পর যার নাম ব্রহ্মপুত্র) নিম্ন অববাহিকায় চিনের বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বাঁধে বিপর্যয় ঘটলে ভারত-বাংলাদেশেও ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা।
ভূমিকম্প নয়, আসল কারণ তুষারধস
মার্কিন সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভোটেকোশীর হড়পা বানের নেপথ্যে ভূমিকম্প নয়, তুষারধস। প্রাথমিক ভাবে যাকে ভূতাত্ত্বিক কম্পন বলে মনে করা হয়েছিল, তা আসলে হিমবাহধস বলে দাবি সংস্থার।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ বহু
'কাঠমান্ডু পোস্ট'-এর খবর অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭। এখনও ৪৬৮ জন পর্যটকের খোঁজ মেলেনি, যাঁদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয় (৩৭ জন অনাবাসী-সহ)। তাঁরা সকলে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন। চিনের তিব্বতেও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ৫৫৮ জন।

