Worlds Hottest Month August: আরও উত্তপ্ত পৃথিবী! উষ্ণায়নের গ্রাসে অগ্নিগর্ভ বিশ্ব। উষ্ণতার সব রেকর্ড ভেঙে দিল ২০২৬ সালের অগাস্ট। মানব ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরের অগাস্ট মাস নজির গড়ল পৃথিবীর সর্বকালের উত্তপ্ততম মাস হিসেবে।

World's Hottest Month August: আরও উত্তপ্ত পৃথিবী! উষ্ণায়নের গ্রাসে অগ্নিগর্ভ বিশ্ব। উষ্ণতার সব রেকর্ড ভেঙে দিল ২০২৬ সালের অগাস্ট। মানব ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরের অগাস্ট মাস নজির গড়ল পৃথিবীর সর্বকালের উত্তপ্ততম মাস হিসেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস' (C3S)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অন্তত তেমনই এক আশঙ্কাজনক ছবি তুলে ধরেছে। সংস্থাটির পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই মাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড স্পর্শ করেছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের আগস্ট। কোপার্নিকাসের পেশ করা তথ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ও উষ্ণায়নের যে ভয়াবহ খতিয়ান উঠে এসেছে, তা দেখে শিহরে উঠছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।

আকাশ ছুঁয়েছে বিশ্ব তাপমাত্রা

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ের রেকর্ড (১৬.৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)-এর চেয়ে মাত্র ০.০১ ডিগ্রি বেশি হলেও, নগণ্য পার্থক্যের কারণে গবেষকেরা এই দুই মাসকে যৌথভাবে পৃথিবীর ইতিহাসের তপ্ততম মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের আগস্ট মাসের গড়ের তুলনায় এই তাপমাত্রা ০.৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

বিপদের চরম সীমা অতিক্রম

শিল্পবিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের (১৮৫০–১৯০০) গড়ের চেয়ে ২০২৬-এর আগস্ট মাসের তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব উষ্ণায়নের সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার যে সংকল্প নেওয়া হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে সরাসরি ভঙ্গ করেছে। ২০১৫ সালের পর এই নিয়ে প্রথম বার (২০২৫-এর নভেম্বরের পর) বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ফের সেই সংকটজনক ১.৫ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করল। ১৯৪০ সালের পর থেকে এ যাবৎ এমন ঘটনা খুব কমই দেখা গিয়েছে যে জুলাইয়ের চেয়ে আগস্ট মাস বেশি উত্তপ্ত ছিল।

উত্তপ্ত সমুদ্র, মহাসংকটে বাস্তুতন্ত্র

কেবল বাতাস নয়, ফুটছে মহাসাগরও। মেরু অঞ্চল বাদ দিলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা আগস্ট মাসে ২১.০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়ে নতুন নজির গড়েছে, যা ২০২৪ সালের মার্চের রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলেছে। বস্তুত, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশেরও বেশি শুষে নেয় সমুদ্র। এই আগস্টেই বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের দৈনিক তাপমাত্রার সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ দহন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী 'এল নিনো' (El Niño)-র সক্রিয় রূপই এই অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ার মূল কারণ।

ইউরোপে খরা ও শুকিয়ে যাওয়া নদী

সামগ্রিক ইউরোপের নিরিখে এটি তৃতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম হলেও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকাল ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে উত্তপ্ত, যা ২০০৩ সালের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আগস্টে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপজুড়ে চরম অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। রাইন, দানিউব, রোন, পো এবং ভিস্টুলার মতো ইউরোপের জীবনরেখা বলে পরিচিত নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে।

বিজ্ঞানী ও জাতিসংঘের লাল সতর্কতা

কোপার্নিকাসের স্ট্র্যাটেজিক লিড সামান্থা বার্জেসের মতে, "২০২৬ সালের আগস্ট জলবায়ু রেকর্ডে এক ভয়াবহ অধ্যায়। বিগত ১ লক্ষ বছরেও মানবজাতি এত বেশি তাপমাত্রা প্রত্যক্ষ করেনি।" আবহাওয়াবিদ ফ্রিডেরিক অটোর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, "কয়লা, খনিজ তেল ও গ্যাসের ব্যবহার অনতিবিলম্বে বন্ধ না করলে নিত্যনতুন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার এই নারকীয় ধারা থামবে না।"কোপার্নিকাসের ১৯৪০ সাল থেকে রাখা 'ERA5' ডেটা এবং প্রাচীন বরফের কোর থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬-এর শেষ এবং ২০২৭ সালে আরও ভয়াবহ দাবদাহ অপেক্ষা করে রয়েছে পৃথিবীর জন্য।