নাম বদলের পরই ডেয়ারডেভিল ক্রিকেট খেলছে দিল্লি শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদের মুখোমুখি চ্যম্পিয়ন সিএসকে গত দুই ম্যাচে হেরে কিছুটা চাপে ধোনির দল অন্যদিকে ফাইনালের গন্ধে চনমনে হয়ে রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটাল্স 

নাম বদলের পর এই বছর একেবারে 'ডেয়ারডেভিল' ক্রিকেট খেলেছে দিল্লি ক্যাপিটাল্স। প্রথমবার আইপিএল-এর প্লেঅফে জয় পেয়েছে তারা। প্রথম ফাইনাল খেলার পথে এখন একমাত্র বাধা মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। এই মরসুমে দুইবারের সাক্ষাতে একবারও চেন্নাই ধাঁধার সমাধান করতে পারেনি দিল্লির দল। শুক্রবার, এই ধাঁধার সমাধান করাটাই লক্ষ্য সৌরভ-পন্টিং-এর দলের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিল্লি দলের পরামর্শদাতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন এলিমিনেটর-সহ শেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে ক্যাপিটাল্স, অপর পক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ার-সহ নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে পরাজিত হয়েছে সিএসকে। বস্তুত তাব্র চাপের মুখে পন্থ আগের ম্যাচে ২১ বলে ৪৯ রানের যে দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেছেন, তাই দিল্লি দলের মনোবল হাজার গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পন্থের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারার অভিযোগ ওঠে, তা ওই ম্যাচেও দেখা গিয়েছে। আইপিএল কোয়ালিফায়ারে কিন্তু সেই বদনাম ঘোচাতে মরিয়া থাকবেন তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

আরেক তরুণ প্রতিভা পৃথ্বী শ-ও রানের মধ্য়ে ফিরে এসেছেন। সেই সঙ্গে বিশাখাপত্তনমের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্য়াচ খেলার অভিজ্ঞতাও তাদের পক্ষে থাকবে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনেকটাই চেনা থাকবে।

কাগিসো রাবাডা চলে যাওয়ায় দিল্লির বোলিং-এ বড় ফাঁক দেখা যাবে - এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু রাবাডার অনুপস্থিতিতে অনেকটা দায়িত্ব নিচ্ছেন ট্রেন্ট বোল্ট ও ইশান্ত শর্মা। সঙ্গে থাকছেন বহু যুদ্ধের নায়ক স্পিনার অমিত মিশ্র।

অপরপক্ষে আইপিএল-এর সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হয়েও এই মুহূর্তে খুব ভালো অবস্থায় নেই মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েও বলা যেতে পারে সিএসকে একেবারে পর্যুদস্ত হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্য়াটসম্যানদের উইকেট ছুঁড়ে দেওয়া। ধোনি নিজেও মুম্বই ম্য়াচের পর বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তাঁর মতে সকলেই ভালো ব্য়াট করলেও মাঝে মাঝে শট বাছাইতে ভুল হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়ে যাওয়ায় ভুগতে হচ্ছে দলকে।

চেন্নাইয়ের বোলিং বিভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তাহির ও হরভজন এম চিদম্বরম স্টেডিয়ামে যতটা ভয়ঙ্কর থাকেন ততটা বিষাক্ত বিশাখাপত্তনমে হয়তো তাদের মনে হবে না।

তবে এই ম্যাচে চেন্নাইয়ের পক্ষে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হতে পারে তাদের বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। আইপিএল-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলেছে ধোনির দলই। আর বড় ম্যাচে ধোনির ঠান্ডা মাথাটা কতটা কাজে লাগে তা সকলেরই জানা। এইখানটায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে দিল্লি ক্যাপিটাল্স। তাদের তরুণ দলকে চলতি টুর্নামেন্টে মাঝে মাঝেই চাপের মুখে ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে। এমনকী এলিমিনেটর ম্যাচেও পন্থের আউটের পর শেষ দুই ওভারে দারুণ চাপে পড়েছিল রাজধানীর দলটি।

চেন্নাই সুপার কিংস দলের প্রধান চিন্তা দলের ব্য়াটিং। ধোনি অবশ্য বলেছেন, যাঁরকা খেলছেন তাঁরাই তাদের সেরা ব্য়াটসম্যান। কিন্তু তারপরেও এই ম্যাচে মিডল অর্ডারে ধ্রুব শোরে ও ওপেনে মুরলি বিজয়কে আনার কথা শোনা যাচ্ছে। অপর পক্ষে ক্যাপিটাল্স-এর দল একেবারে তৈরি। তাদের প্রথম একাদশে বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই।

দেখে নেওয়া যাক দুই দলের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ

চেন্নাই সুপার কিংস: শেন ওয়াটসন, ফাফ দু'প্লেসিস, মুরলি বিজয়, সুরেশ রায়না, আম্বাতি রায়ডু, এমএস ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, ডোয়েন ব্রাভো, দীপক চাহার, হরভজন সিং, ইমরান তাহির।

দিল্লি ক্যাপিটাল্স: পৃথ্বী শ, শিখর ধাওয়ান, শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), ঋষভ পন্থ (উইকেটরক্ষক), কলিন মুনরো, শেরফানে রাদারফোর্ড, অক্ষর প্যাটেল, কিমো পল, ট্রেন্ট বোল্ট, অমিত মিশ্র, ইশান্ত শর্মা।