আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ১০ উইকেটে হারাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। একইসঙ্গে আইপিএলের প্লে পৌছে গেল ডেভিড ওয়ার্নারের দল। প্রথমে ব্যাট করে ১৪৯ রান করে মুম্বই। রান চেজ করতে নেমে অনবদ্য ব্যাটিং করেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ঋদ্ধিমান সাহা। দুজনেই হাফ সেঞ্চুরি করেন।  ১৭ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। কিন্তু ইনিংসের শুরুটা ভাল হয়নি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। তৃতীয় ওভারে দলের ১২ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। সন্দীপ শর্মার বলে ৪ রান করে আউট হন রোহিত শর্মা। এরপর পাওয়ার প্লে-তে বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্বক শটও খেলেন কুইন্টন ডিকক ও সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু পঞ্চম ওভারে সন্দীপ শর্মার বলে আউট হন কুইন্টন ডিকক। ২৫ রান করেন তিনি। ৬ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪৮ রানে ২ উইকেট। এরপর মুম্বইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান সূর্যকুমার যাদব ও ইশান কিষাণ। সূর্যকুমার যাদব খারাপ বললে হিট করলেও, শুরুটা ধীরেই করেন ইশান কিষাণ। ১০ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর হয় ৭৭ রানে ২ উইকেট।  

১২ তম ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে মুম্বইকে বড়সড় ধাক্কা দেন শাহবাজ নাদিম। ৩৬ রান করে করে আউট হন সূর্যকুমার যাদব ও খাতা না খুলেই প্যাভেলিয়নে ফেরত যান ক্রুণাল পান্ডিয়া। এরপর ১৩ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। ১ রান করে রাশিদ খানের শিকার হন সৌরভ তিওয়ারি। ১৫ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোর দাঁড়ায় ৯৮ রানে ৫ উইকেট। ১৬ তম ওভারে রানের গতিবেগ বাড়ায় কায়রন পোলার্ড। পরপর দুটি চার মারেন নটরাজনকে। ১৭ তম ওভারে সন্দীপ শর্মাকে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ইশান কিষাণ। কিন্তু সেই ওভারেই বোল্ড হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান ইশান কিষাণ। ১৭ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১৬।  ১৮ তম ওভারে সপ্তম উইকেটের পতন হয় মুম্বইয়ের। জেসন হোল্ডারের বলে ১ রান করে আউট হন কুল্টারনাইল।  ১৯ তম ওভারে পরপর তিনটি ছয় মারেন কায়রন পোলার্ড। ১৯ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯ রান ৭ উইকেট। শেষে ওভারে একটি ছক্কা মারেন পোলার্ড। কিন্তু তারপরই হোল্ডারের বলে আউট হন তিনি। ২৫ বলে ৪১ রান করেন পৌলার্ড। ২০ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংস শেষ হয় ৮ উইকেটে ১৪৯ রানে। 

১৫০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দুরন্ত শুরু করেন সানরাইজার্স হায়দরবাদারে দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ঋদ্ধিমান সাহা। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে ব্যাট করেন দুই ব্যাটসম্যান। প্যাটিনসন, কুল্টারনাইল, ধবল কুলকার্নিদের একের পর এক প্রহার করেন ওয়ার্নার-ঋদ্ধি জুটি। একের পর এক বাউন্ডারি মারতে থাকেন তারা। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ পুরো করে নেন ওয়ার্নার ও ঋদ্ধিমান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে সানরাইজার্সের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৬ রান। পাওয়ার প্লের পরও নিজেদের পার্টনারশিপ চালিয়ে যান হায়দরাবাদের দুই ওপেনার। ক্রুণাল পান্ডিয়া ও রাহুল চাহরের স্পিন অ্যাটাকও ভাঙতে পারেনি তাদের রক সলিড জুটি। আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতেই ব্যাটিং চালিয়ে যান ওয়ার্নার ও ঋদ্ধি। একাধিক চেষ্টা করেও রোহিত শর্মা উইকেট তুলতে সমর্থ হয়নি। ১০ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেট ৮৯ রান।

১০ ওভারের পর রানের গতিবেগ আরও  বাড়ান ওয়ার্নার ও ঋদ্ধি। শতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন দুই তারকা ব্যাটসম্যান। ১২ তম ওভারে একে একে নিজেদের  অর্ধশতরান পূরণ করেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ঋদ্ধিমান সাহা। ১৩ ওভার শেষে হায়দরাবাদের স্কোর হয় ১২২।  এরপও হায়দরাবাদের ম্যাচ জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। ১৫ ওভার    শেষে স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ১৩৭ রান। ১৬ তম ওভারের শুরুতেই আরও একটি চার মারেন ওয়ার্নার। ১৬ ওভারে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৪৪। ১৮ তম ওভারের প্রথম বলেই ক্রুনালপান্ডিয়াকে চার মেরে খেলা শেষ করেন ডেভিড ওয়ার্নার। ৮৫ রানে নট আউট থাকেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ৫৮ রানে নটআউট থাকেন ঋদ্ধিমান সাহা। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের তৃতীয় দল প্লে অফে পৌছে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। একইসঙ্গে ২০২০ আইপিএলের অভিযান শেষ হল কলকাতা নাইট রাইডার্সেরও। মুম্বই, দিল্লি , ব্যাঙ্গালোর ও হায়দরাবাদ পৌছল ২০২০ আইপিএলের প্লে অফে। ৫ তারিখ প্রথম প্লে অফে মুখোমুখি মুম্বই-দিল্লি।