জেলা হাসপাতাল এবার মেডিকেল কলেজ। রাজ্য়কে না জানিয়ে দিলীপকে চিঠি স্বাস্থ্য়মন্ত্রীর। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রূপ নিচ্ছে  সরকারি মেডিক্যাল কলেজ-এ। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তেই এই পদক্ষেপ। এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কাছে এ বিষয়ে কোনও খবরই নেই।  রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী এ নিয়ে কিছুই জানেন না । কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চিঠি এল রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামে। রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে দিলীপ ঘোষকে চিঠি দেওয়ায় কার্যত তাজ্জব বনে গেছেন তাঁরা। স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করতে শুরু করেছেন রাজ্যের শাসকরা।

আরও পড়ুন, মহিলার রক্তাক্ত দেহ ঘিরে রহস্য়, ধর্ষণ করে খুন কিনা তদন্তে পুলিশ


সূত্রের খবর, চিঠিতে লেখা হয়েছে- দিলীপ ঘোষের  নেতৃত্বে  ওই মেডিক্যাল কলেজ রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্য় পরিষেবা প্রদান করবে। ঘটনায় অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অপরদিকে পাল্টা প্রশ্ন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের, তিনি চিঠি পেয়েছেন বলে তৃণমূলের কি 'গা জ্বলছে'। গত  ২৩ জানুয়ারি,  দিলীপ ঘোষকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালকে 'সরকারি মেডিক্যাল কলেজে' উন্নীত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চিঠিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতির উদ্দেশে আরও লিখেছেন, তিনি আশা করছেন যে  দিলীপ ঘোষের প্রগতিশীল নেতৃত্বে এই কলেজ স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা মেটাবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর এবং সমৃদ্ধশালী ভারত সুনিশ্চিত করবে। 

আরও পড়ুন, পরকে ভালো রাখতে সুখের কৃচ্ছসাধন, সঞ্চয়ের ১ কোটি বিলিয়ে দিলেন মহামানবী চিত্রলেখা

শুক্রবার এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসক দলের তরফে  বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকেও এই চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, এখনও অবধি তা স্পষ্ট নয়। শুক্রবার সন্ধ্যাবেলাতেও সে বিষয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দাবি, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে পরিণত করতে হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে তা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলারই বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেবও জানিয়েছেন যে, এই চিঠির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আর এর উত্তরে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেছেন,  ওরা তো কোথাও যায়ও না, কিছু বলেও না। তাহলে ওদের জানাবে কেন, রাজ্য বিজেপির সভাপতির তরফে পাল্টা প্রশ্ন।