সন্তানদের নিয়ে মর্তে আসার সময় হয়েছে মায়ের। অপেক্ষা আর মাত্র কিছুদিনের। মহালয়া থেকেই কলকাতার বিভিন্ন থিমের পুজোর দেখার জন্য ভিড় জমে রাস্তায়। তবে শুধুমাত্র পুজো প্যান্ডেলই নয় কলকাতার পুজোর মধ্যে শামিল বনেদি বাড়ির পুজোও। এইসব বাড়ির পুজোগুলি বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও প্রতিটি বাড়িই বহন করছে নিজ নিজ ইতিহাস ও পরম্পরা। সাবেকি বাড়ির  মধ্যে অন্যতম হল ওয়েলিংটন স্কোয়ারের চন্দ্র বাড়ির পুজো। 

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে নদিয়া জেলা থেকে কলকাতায় আসেন দক্ষিণ রাঢ়ীয় কায়স্থ সমাজভুক্ত চন্দ্র পরিবার। কলকাতায় এসে সাবেক ডিঙাভাঙা অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন তাঁরা। ওই পরিবারের সদস্য গনেশচন্দ্র একজন স্বনামধন্য আইনজীবী ছিলেন। ১৮৭৭ সাল থেকে সাবেক ওয়েলিংটন স্ট্রিটের ভদ্রাসনে দুর্গাপুজো শুরু করেন। এছাড়াও গণেশচন্দ্রের পৌত্র নির্মলচন্দ্র ছিলেন বাংলার একজন রাজনৈতিক নেতা। সে কারণেই মহাত্মা গান্ধী, চিত্তরঞ্জন দাশ, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, বিধানচন্দ্র রায়, সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহেরু-সহ বহু নেতার যাতায়াত ছিল ওই বাড়িতে।

আরও পড়ুনঃ নাম লেখাননি এখনও, দেরি না করে অংশ নিন এশিয়ানেট নিউজ শারদ সম্মান ২০১৯-এ 

সে যুগের প্রখ্যাত স্থপতি শশীচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ওয়েলিংটন স্কোয়ারের উপরে চন্দ্রদের বাড়ি ও ঠাকুরদালান নির্মাণ করেন। এই ঠাকুর দালানটি একটু অন্যরকম। উত্তরপ্রান্তে ভারতীয় স্থাপত্যের রীতিতে তৈরি দু'দালান ও তিন খিলানের এই ঠাকুরদালান। যার সঙ্গে রয়েছে সাবেকি একচালা ডাকের সাজের বাংলা শৈলীর মহিষাসুরমর্দিনী প্রতিমা ও আধুনিক রূপী সিংহ। মহালয় পরের দিন থেকেই এই পুজোর বোধন শুরু হয়।

আরও পড়ুনঃ এবার পুজোয় পরিবেশ বাঁচানোর শপথ নিয়ে আসছে সল্টলেকের এজে ব্লক 

একঘেয়ে থিম পুজো ছেড়ে একটু অন্যরকম বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে চাইলে একবার ঘুরে আসতেই পারেন মধ্য কলকাতার ২৩, নির্মলচন্দ্র স্ট্রিটের এই চন্দ্র বাড়িতে।