হ্যাঁ সংখ্যাটা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হলেও এটাই সত্যি।  ঠিক এই অঙ্কের দুর্নীতির জেরে রীতিমতো তোলপাড় টালিগঞ্জে। 

এত দিন চেপে রাখলেও অবশেষে চাপের মুখে গোটা ঘটনাটাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলে ধরলেন টালিগঞ্জের আর্টিস্ট ফোরামের প্রধান মুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি এসে শনিবার তিনি জানালেন, 'এই টাকা শিল্পীদের পরিশ্রমের বিনিময়ে পাওনা টাকা। বহু শিল্পী আর্থিক কষ্টে রয়েছেন পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে যাতে শিল্পীদের ভিক্ষে চাইতে হচ্ছে। আর্টিস্ট ফোরাম এই ঘটনা মেনে নেবে না। আমরা আন্দোলনের দিকে যাব। প্রয়োজনে সংবাদমাধ্যমকে সব বিবৃতি দিয়ে জানাব।'

অভিযোগ বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিয়াল 'জয় বাবা লোকনাথ', 'আমি সিরাজের বেগম', 'খনার বচন', 'মহাপ্রভু চৈতন্য' ও 'প্রথম প্রতিশ্রুতি'-র সঙ্গে জড়িত অভিনেতা অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ানদের বেশ কয়েক মাসের বকেয়া টাকা না দিয়ে চম্পট দিয়েছেন  প্রযোজকরা রানা সরকার তথা দাগ সি মিডিয়া। অভিযোগ তার সঙ্গে এই গোটা দুর্নীতিতে হাত মিলিয়েছে দাগ সি মিডিয়ার কর্মী অদিতি রায় এবং অরিন্দম পাল। এই দুর্নীতির জেরে মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সিরিয়াল। ছেড়ে গিয়েছেন অভিনেতারা। তাঁদের মুখের দিকে চেয়েই এগিয়ে এসেছে ফোরাম। 

অথচ ফেডারেশান আর্টিস্টদের স্বার্থের প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছে। আর্টিস্টদের কে টাকা দেবে, চ্যানেল কেন দায় নেবে, এই সমস্ত  প্রশ্ন এই টেবিল, সেই টেবিলে ঘুরছে, কিন্তু সমস্ত ছোট ইউনিটগুলির মাদার বডি তথা ফেডারেশনের কোনও বক্তব্য নেই এ যাবৎ। 

গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে সমস্যায় পড়ছেন টেকনিশিয়ন, ইএমআই শোধ করতে পারছেন না নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিভি অভিনেত্রী, আর ফেডারেশন কর্তা তথা তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস কিছুই জানেন না, এ কথা কি বিশ্বাসযোগ্য? 

আপাতত ঘর গোছাতে ব্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিপাড়া এই বাঁজা সময়েও তাঁকে ডিভিডেন্ট দিয়েছে। টালবাহানর সময়ে সেই টলিপাড়া মুখ ফেরালে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিপদ বাড়ূবে বই কমবে না। অতীতে সংকটে টলিপাড়াকে রক্ষা করেছেন মমতা, এবার তাঁর কান পর্যন্ত কথাটা পৌঁছে দেবে কে?  বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধবে কে!