হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় পুলিশকে মারধর কাণ্ডে মঙ্গলবারই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। বেলিলিয়াস রোডে ঘটনার রাতেই সরিয়ে দেওয়া হয় পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণাকে। রাত ১১ টা নাগাদ নবান্নের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয় যে, হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক ধবল জৈন আপাতত পুর কমিশনার পদের দায়িত্বও সামলাবেন। পুর কমিশনারের এই বদলির পরই রাজ্য় সরকারকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। 

২০ জনের বেশি যাত্রী নয়,গ্রিন জোনে চলবে বেসরকারি বাস..

টুইটারে বাবুল লিখেছেন,‘এতো বড় রঙ্গ জাদু, এতো বড় রঙ্গ ’ দিদির দুধেল গরুদের তান্ডবের সাথে পুর-কমিশনারের কি সম্পর্ক? নাকি ‘চাল-ডাল’ মে কুছ অউর কালা হ্যায়? টিএমসি নেতাদের ‘চাল-ডাল-চুরি’ আটকাতে যাননি তো?’

— Babul Supriyo (@SuPriyoBabul) April 29, 2020 

এদিকে হাওড়ায় টিকিয়াপাড়ার পুলিশ পেটানোর ঘটনায় এবার পাল্টা বিজেপির দিকে বাক্যবান শানিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বুধবার নবান্নে  টিকিয়াপাড়া নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা বলেন,এসবে আমরা জাত-ধর্ম দেখি না। অন্যায় করলে কোনও হিন্দু-মুসলমান নেই সরকারের কাছে। ক্রাইম ইজ ক্রাইম।

সোমবার থেকে রাজ্য়ে কোন কোন দোকান খোলা, বন্ধ থাকবে কোনগুলি.

মুখ্য়মন্ত্রীর দাবি,রাজ্য়ের করোনা পরিস্থিতির মধ্য়েও কিছু লোক রাজনীতি করে যাচ্ছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে বাংলায় কিছু হলেই তা বিশাল বড় করে দেখাচ্ছে। এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী।  মমতা বলেন, আপনারা যেখানে সরকার চালান সেখানে কী হচ্ছে? কই সেসব নিয়ে তো আমরা বলতে যাচ্ছি না। আপনারা যদি মুখ খোলেন তাহলে আমিও আপনাদের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেব। দিল্লিতে সিএএ-র প্রতিবাদ করতে গিয়ে কত লোক মারা গেছেন আমিও জানি। কিন্তু আমি এসব চাই না। টিকিয়াপাড়ায় একটা ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ অ্যাকশন নেবে। তোমার কী! সারাক্ষণ শকুনির মতো বসে আছে। কখন একটা ডেড বডি আসবে আর ঠুকরে ঠুকরে খাবে।

মঙ্গলবার বিকেলে হটস্পট হাওড়াতে লকডাউন ভাঙা জনতাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলায় পুলিশের উপরে আক্রমণ চালায় উন্মত্ত জনতা। তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে দুই পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়িতে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া থানা এলাকার টিকিয়াপাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের কাছে। আগেই ওই এলাকাগুলি হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

করোনার গ্রাসে বন্ধ হয়েগেল কলকাতা হাইকোর্ট, কোয়ারান্টাইনে একাধিক অফিসার...

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া শহর এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘোষণা করেন। রেড জোনে থাকা হাওড়াকে তিনি ১৪ দিনের মধ্যে অরেঞ্জ জোনে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। তারপরেও মঙ্গলবার প্রায় সকাল থেকেই ওইসব এলাকায় বহু মানুষকে লকডাউনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। বিকেলে টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে ফল ও অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য অসংখ্য মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। এই সময়ে এলাকায় টহলরত পুলিশ বাইরে বেরোনো মানুষজনকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। 

কিন্তু পুলিশের অনুরোধকে গ্রাহ্যের মধ্যেই আনেনি রাস্তায় নামা কয়েকশো মানুষ। বিকেল যত গড়িয়েছে মানুষের ভিড় ততই বাড়তে থাকে। কারও মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদও ছিল না। অভিযোগ, একরকম বাধ্য হয়েই পুলিশ এলাকার মানুষকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য সামান্য বল প্রয়োগ করে। তক্ষণাৎ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। তারপরই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। র্য়াফ কর্মীকেও সম্মিলিত জনতা মারধর করতে থাকে। 

জনতার ছোঁড়া ইটের আঘাতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর সহ দুই পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। উন্মত্ত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে পুলিশ কর্মীরা কোনওরকমে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন। তারপর বিশাল সংখ্যক পুলিশ, রাফ ও কমব্যাট ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি সামনে আসতেই মমতার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। সোশ্য়াল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে মমতার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা। যদিও গতকালই রাতে টিকিয়াপাড়ায় শুরু হয়েছে ধরপাকড়। ইতিমধ্য়েই পুলিশ পেটানোর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে।