করোনা ভাইরাস রুখতে বিনামূল্যে মোদী মাস্ক বিলি শুরু করল রাজ্য়  বিজেপি। কলকাতায় 'সেভ ফ্রম করোনা ভাইরাস ইনফেকশন মোদীজি' নামে এই মাস্ক বিলি শুরু হয়েছে। রাজ্য় বিজেপির নেতারাই হাতে হাতে বিলি করছেন এই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী মাস্ক।

সততার নন- সারদার প্রতীক মমতা, খোঁচা দিলেন বিজেপি নেতা

সম্প্রতি টুইটারে করোনা নিয়ে মন্তব্য় করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। টুইটে প্রধানমন্ত্রী লেখেন,নোভেল করোনাভাইরাসের কারণে এই বছর তিনি কোনওরকম দোলের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।  পৃথিবীজুড়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন-একসঙ্গে যাতে বহু সংখ্যক মানুষ দোলের অনুষ্ঠানে যোগ না দেন। এতে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে। 


প্রধানমন্ত্রীর এই টুইট নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, দিল্লির হিংসার ঘটনা ধামাচাপা দিতে করোনা ভাইরাসের কথা বলা হচ্ছে। অনেকে করোনা করোনা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। এটা একটা রোগ বটে, কিন্তু এখনই এ নিয়ে ঘাবড়়াবার কিছু নেই। বুধবার বুনিয়াদপুরের সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য় রাজ্নৈতিক মহলের মতে, নাম না করে আসলে মোদীকেই করোনা নিয়ে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

করোনা আতঙ্কে বিকোচ্ছে না মুরগী, ক্রেতার চোখ টানতে পেঁয়াজ ফ্রি

বুনিয়াদপুরে সংবাদমাধ্য়মের সমালোচনা করে মমতা বলেন,  আমরা চাই ওষুধ বের হোক৷ কিন্তু যাঁরা দিল্লিতে মারা গিয়েছেন তাদের কারও করোনা বা বিজেপির ডেঙ্গু হয়নি৷ করোনার মতো মারণ রোগে মারা গেলে সান্তনা দেওয়ার থাকত৷ কিন্তু এরা সুস্থ মানুষগুলোকে জ্যান্ত মেরে দিল৷

রাজ্য় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মোদী মাস্কের মাধ্য়মে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে বিজেপি। মমতা যখন করেনার মধ্য়েও দিল্লির হিংসা ধামাচাপার  কথা বলছেন,  তখন মাস্ক দিয়ে পাশে থাকছে বিজেপি। আগামী  দিনে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে এই মাস্ক প্রচারের হাতিয়ার হতে চলেছে গেরুয়া ব্রিগেডের।

করোনা আক্রান্ত দেশে যাওয়া যাবে না, অধ্যাপক-গবেষক-ছাত্রদের উপর জারি হল নিষেধাজ্ঞা

দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই কোরোনা আতঙ্ক তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৮জনের শরীরে কোরোনার সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন সিং এই খবর জানিয়েছেন।  দিল্লির মেডিক্যাল আধিরকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। পরে তিনি জানান, ইরানে একটি ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরানোর আগে সেই ল্যাবে ভারতীয়দের পরীক্ষা হবে। 

সংক্রমণ রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র সরকার। দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ৩৩টি করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া দিয়েছে সরকার। তবে সংক্রমণ এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এদিকে করোনা ভাইরাসে চিনে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। আগামী সপ্তাহেই দোল। রঙের খেলায়  এ বছর মারণ করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।