একেবারে ৬৫ অঙ্কের ব্যবধান। পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে  কেন্দ্রের সঙ্গে মতপার্থক্য লেগেই ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তা বিশাল আকার ধারণ করল।  ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৫। কিন্তু এদিন সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের বুলেটিনে দেখা যায়, এক লাফে সংখ্যাটা ১৩৩ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল বঙ্গেই মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮ বেড়েছে। য়ার তুলনায় গোটা দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ১৯৫।যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য় রাজনীতিতে। কোনটা ঠিক তা নিয়ে রাজ্য় সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। 

১২ জন নার্সের করোনা পজিটিভ,এবার বন্ধ হল পার্কসার্কাসের শিশু হাসপাতাল.

এ বিষয়ে গতকাল স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, রাজ্য়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আরও ৭২ জন এমন রোগীর মৃত্যু হয়েছে যাঁদের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে। তবে এদের কো-মর্বিডিটির সমস্যাও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে কো-মর্বিডিটি থাকা রোগীদেরও করোনায় মৃত্যর সংখ্যাতেই হিসেব করা হচ্ছে। তাই এই রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৩। যদিও এদিন কেন্দ্রের বুলেটিনেও কো-মর্বিডিটির উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১৩৪৪, মৃত ৬৮.

এদিন বিকেলেই রাজ্য়ের করোনা চিত্র নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন স্বারাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি জানান, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩৪৪। সোম থেকে মঙ্গলবারের মধ্য়েই মৃত্যু হয়েছে আরও সাত জনের। যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৮। 

কলকাতায় কোথায় কোথায় কন্টেনমেন্ট জোন, দেখে নিন তালিকা.

তবে রাজ্য় সরকার জানিয়েছে,করোনা সংক্রমণের সঙ্গে অন্য কো-মর্বিডিটি নিয়ে যত জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাটা ১৪০। এই মুহূর্তে রাজ্য়ে করোনা চিকিৎসা চলছে ৯৪০ জনের। মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানান রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ জন। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬৪ জন।

রাজ্য়ের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে,রেশন বিলি নিয়ে উত্তাল রূপ নিয়েছে রাজ্য়। যদিও স্বরাষ্ট্রসচিব এদিন জানিয়েছেন, রাজ্য়ের বর্তমান রেশন ব্যবস্থার জন্য়  উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকলেও কুপনে রেশন তুলতে পেরেছেন ৬৫ লক্ষ মানুষ। সব মিলিয়ে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় উপকৃত হয়েছেন প্রায় ১০ কোটি মানুষ। যাদের মধ্য়ে অনেক গরিব মানুষ খাদ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্য়মে উপকৃত হয়েছেন। এদের সংখ্যাটা সাড়ে ন’কোটির বেশি।