পোলবার দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুদের এসএসকেম-এ দেখতে এসে প্রবেশাধিকার পেলেন না বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এসএসকেম হাসপাতালের ভিতর যাওয়ার অনুমতি মিলল না হুগলির সাংসদের। এদিকে ঢুকতে না দেওয়ায়  কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর কিছু সময় পর নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ঢুকতে দেওয়া হয় তাঁকে। 

আরও পড়ুন, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চলছে চমক দিয়ে , আনন্দ-আবেগে একাকার কলকাতাবাসী

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে অভিভাবক এবং পড়ুয়া-সহ মোট ১৪ জন পুলকারে চড়ে দিল্লি রোড দিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রচণ্ড গতিতে যাওয়ার সময় কামদেবপুরে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি সিমেন্টের পোস্টে সজোরে ধাক্কা মেরে নয়ানজুলিতে পড়ে উলটে যায়। উদ্ধারের পর চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহতদের। তবে দিব্যাংশু এবং ঋষভ নামে দুই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আর তাদের সুস্থ করতে গিয়েই ফের নজির গড়ল এসএসকেএম। 

সূত্রের খবর, এদিকে দুর্ঘটনার পর হুগলির ইমামবরা হাসপাতালেই প্রথমে নিয়ে আসা হয়েছিল আহত শিশুদের। তারপরে তাদেরকে স্থানান্তরিত করে নিয়ে আসা হয় শহরের এসএসকেম হাসপাতালে। আর এই স্থানান্তরন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। রাজ্য়ের মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্য়ায়ের উদ্দেশ্য়ে কড়া ভাষায় বক্তব্য় রেখেছেন তিনি।  অভিযোগ এনে তিনি বললেন, রাজ্য়ের মুখ্য়মন্ত্রী বলা কথা অনুযায়ী ইমামবরা হাসপাতাল রাজ্য়ের অন্য়তম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, তাহলে ওই আহত শিশুদের স্থানান্তরিত করে এসএসকেম-এ নিয়ে যাওয়া হল কেন, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।  হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, আরও বলেছেন, জনগনের টাকা নিয়ে তার সঠিক প্রয়োগ করা হয়নি। শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ লকেট চট্টোপাধ্যায় হাসপাতালে আসেন। জখম দিব্যাশুর পরিবারের কথা বলেন তিনি। এরপর ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ঢুকে জখম ঋষভ এবং দিব্যাংশুর সঙ্গে দেখা করতে চাইতেই প্রাথমিক ভাবে অনুমতি মেলে না বিজেপি সাংসদের। তারপর অবশেষে জখম ঋষভ এবং দিব্যাংশুর সঙ্গে দেখা করতে চান বিজেপি সাংসদ। 

আরও পড়ুন, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো তাদের বাঁচার পথ দেখিয়েছে, সওয়ারি পেয়ে খুশি রিক্সাওয়ালা

হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রচুর পাঁক ঢোকায় দুজনেরই ফুসফুস প্রায় কাজ করছে না। তাদের চিকিত্সার জন্য চেস্ট মেডিসিন, কার্ডিয়ো-থোরাসিক, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, নিউরো সার্জারি, সিসিইউ-সহ সাত বিভাগের চিকিত্সককে নিয়ে ৭ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিশুদের সুস্থ করার জন্য় রাতেই চালু করা হয়েছে একমো অথবা  এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বাইরে থেকে পাম্পের সাহায্যে, কৃত্রিম ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রায় ভারসাম্য় বজায় রাখা হয়। উল্লেখ্য রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতালে এই প্রথম এই ধরনের চিকিত্সা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হল।  অপরদিকে এসএসকেএমের ডিরেক্টর মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে শিশুদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে গিয়ে শিশুদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।