রাজীব কুমারকে জালে তোলার চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সারদা তদন্তের জালও নাকি প্রায় গুটিয়ে ফেলেছে সিবিআই। খুব শিগগিরই সারদা মামলায় অষ্টম এবং চূড়ান্ত চার্জশিটও সিবিআই জমা দিতে পারে বলে সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত চার্জশিটে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, মন্ত্রী-সহ তৃণমূল নেতাদের নামও থাকতে পারে। 

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর অনুয়ায়ী, রাজীব কুমারের খোঁজ পেলেই ততক্ষণাৎ তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই রাজীব কুমারের স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠদেরও জেরা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। রাজীব কুমারের পিওন, গাড়ির চালকদেরও জেরা করা হচ্ছে। রাজীবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলিপুর আদালত শনিবার তাঁকে আগাম জামিন দিলে হাইকোর্টে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অর্থাৎ কোনওভাবেই রাজীবকে গ্রেফতারের সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় সিবিআই। 

আরও পড়ুন- সিবিআই দফতরে শুভেন্দু,নারদা কাণ্ডে হাজিরা দিলেন পরিবহণমন্ত্রী

আরও পড়ুন- রাজীবের খোঁজে বিষ্ণুপুরের রিসর্টে পুলিশ, স্ত্রীর থেকেও হদিশ পাওয়ার চেষ্টা

সিবিআই সূত্রের দাবি, জেরা সারদা কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত দেবযানী মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ব্যবসা চালানোর জন্য প্রতি মাসে সল্টলেকের ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানাকে দশ হাজার টাকা করে দিত সারদা। বেহালা এবং বিষ্ণুপুর থানার মাসোহারা ছিল এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা করে।  এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ কর্তাদের পিছনে প্রতিমাসে আট লক্ষ টাকা করে ওই চিটফান্ড সংস্থার খরচ হতে বলেও নাকি সিবিআই গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন দেবযানী। 

সারদার যে দৈনন্দিন খরচের খাতা ছিল, তা এখনও সিবিআই গোয়েন্দাদের হাতে আসেনি। অথচ জেরায় দেবযানী নাকি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকেই ওই খাতা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই-এর হাতে সারদার কোনও পেন ড্রাইভও আসেনি। এছাড়াও এখনও সারদার দফতরের বহু কম্পিউটারেরও খোঁজ পায়নি সিবিআই। যেগুলি বিধাননগর পুলিশই বাজেয়াপ্ত করেছিল বলে সিবিআই সূত্রের দাবি।