মঙ্গলবার সন্ধ্য়ে পর্য্ন্ত সংখ্যাটা ছিল ৯১। কিন্তু রাত গড়াতেই বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৯। অন্তত তেমনই রিপোর্ট দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রক। বুধবার সকাল ৮টার বুলেটিনে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

বুলেটিনে বলা হয়েছে , বাংলায় এখনও করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৮১ জন। কারণ ৯৯ জনের মধ্যে ১৩ জন ইতিমধ্য়েই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। মারা গিয়েছেন পাঁচ জন। এদিকে গতকালই বিকেল রাজ্য়ে করোনায় আক্রান্তের পরিসংখ্যান তুলে ধরছেন মুখ্য়মন্ত্রী।

রাজ্য়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয়  স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের রিপোর্টের  সঙ্গে পার্থক্য দেখা গিয়েছে রাজ্য় সরকারের। মঙ্গলবার মন্ত্রকের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯১। যদিও নবান্নে প্রেস কনফারেন্স করে খোদ মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য়ে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ৬৯। যার জেরে করোনা নিয়েও কেন্দ্র-রাজ্য় তথ্য় নিয়ে পার্থ্যক্য দেখা গিয়েছে। 

মঙ্গল নবান্নে সাংবাদিক  বৈঠকে মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়ে দেন, রাজ্য়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯। যার মধ্য়ে রয়েছে ৯টি পরিবার। নতুন করে যে আটজনের করোনা ধরা পড়েছে, তাদের মধ্য়ে একটি পরিবারেরই চার জনের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রীর এই বক্তব্য়ের সঙ্গে মেলেনি স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের রিপোর্ট। যেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য়ে মৃতের সংখ্য়া তিনই রয়েছে। তবে নতুন করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৩ জন।

করোনা নিয়ে ব্রিফিং শুরু হতেই মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, অনেকেই রাজ্য় সরকারের এই সংখ্যা শুনে ভুল ভাবছিল। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতো অনেকেই বিশেষজ্ঞা কমিটি গড়ে করোনা সংক্রমণের সংখ্য়া নির্ধারণের কথা ভাবছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সংখ্য়াটা জানতে পেরেছে সরকার।

রাজ্য়ের সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, করোনার আপডেট দিতে রোজ বিকেলে মেডিক্যাল বুলেটিনের ব্যবস্থা করেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। কিন্তু বিগত দিনে নবান্নের সঙ্গে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। রাজ্য়ে করোনায়  কতজন মারা যাচ্ছেন তা জানতে সরকারি নথিতেই ভরসা রাখতে বলেন মুখ্য়মন্ত্রী। যা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের শিকার হন  মুখ্য়মন্ত্রী। এ নিয়ে সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, রোগ লুকিয়ে রাখলে বিপদ বাড়ে। মমতাকে এ বিষয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সরাসরি মুখ্য়মন্ত্রী মৃতের সংখ্য়া নিয়ে রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।